“ইমার্জেন্সিকে ঢাকার চেষ্টা করছেন সনিয়া!” ইন্দিরার পদক্ষেপকে ‘ন্যায্য’ প্রমাণের চেষ্টা করতেই কড়া তোপ বিজেপির

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা (এমার্জেন্সি) এবং বর্তমান মোদী সরকারের শাসনকাল নিয়ে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে অল-আউট যুদ্ধ শুরু হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সিদ্ধান্তকে ঢাকতে সনিয়া ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছেন— এই অভিযোগে শনিবার তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে শাসক দল বিজেপি। একই সঙ্গে ১৯৮৪ সালের মর্মান্তিক শিখবিরোধী হিংসা এবং রামমন্দির নির্মাণের ইতিহাস টেনে গান্ধী পরিবারকে তীব্র আক্রমণ শাণিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

“ইন্দিরাকে ‘ভিকটিম’ সাজানোর চেষ্টা”— তোপ বিজেপির

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বিজেপি নেতা চালি ভান্ডারি অভিযোগ করেন, সনিয়া গান্ধী জরুরি অবস্থার মতো এক ঐতিহাসিক ভুলকে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্য, “সনিয়া গান্ধী তৎকালীন পরিস্থিতি তুলে ধরে ইন্দিরা গান্ধীকে একজন ভুক্তভোগী হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছেন। কিন্তু এই প্রচার চালিয়ে ইতিহাস বদলানো যাবে না। জরুরি অবস্থা জারি করার দায় পুরোপুরি ইন্দিরারই ছিল।”

এখানেই না থেমে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গও মনে করিয়ে দেন এই বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য— ‘একটি বড় গাছ পড়লে মাটি তো কাঁপবেই’—এর মাধ্যমে ওই নির্মম হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করার চেষ্টা করেছিলেন। গান্ধী পরিবারকে এর জন্য দেশ কখনো ক্ষমা করবে না বলে তিনি হুংকার দেন।

অন্যদিকে, বিজেপির বর্ষীয়ান সাংসদ তরুণ চুঘ সনিয়া গান্ধীর ইতালীয় বংশোদ্ভূত পরিচয় টেনে কটাক্ষ করার পাশাপাশি অযোধ্যায় রামমন্দির জটের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি দাবি করেন, “গান্ধী পরিবারের তিন প্রজন্ম রামমন্দির নির্মাণের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়েছে।” পাশাপাশি, বর্তমান মোদী সরকারের আমলে ভারত ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হারে এগিয়ে চলেছে বলে সনিয়ার গণতান্ত্রিক কাঠামোর অবনতির অভিযোগ খারিজ করেন তিনি।

সঞ্জয় নন, ইন্দিরার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন প্রবীণরা: সনিয়া

সম্প্রতি ‘দ্য হিন্দু’-র জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এন রামকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার এবং নিজের আসন্ন বই ‘Belonging: A Journey Of Love’-এর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জরুরি অবস্থা নিয়ে মুখ খোলেন সনিয়া গান্ধী। তাঁর দাবি, ১৯৭৫ সালের ওই অতিরিক্ত কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল সঞ্জয় গান্ধী একাই দায়ী ছিলেন না; ইন্দিরার দলের কয়েক জন প্রবীণ সহকর্মীও তাঁর ওপর চরম মানসিক চাপ তৈরি করেছিলেন। সনিয়া জানান, রাজীব গান্ধী তৎকালীন সময়ে নিজের মায়ের কাছে জনগণের বাস্তব প্রতিক্রিয়া পৌঁছে দিতেন এবং শেষ পর্যন্ত ইন্দিরা নিজের উপলব্ধি থেকেই পদক্ষেপ করেছিলেন।

জরুরি অবস্থাকে সংবিধানের পরিধির মধ্যে নেওয়া পদক্ষেপ দাবি করে সনিয়া বলেন, “সেই সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক হিংসাত্মক আন্দোলন হচ্ছিল, সরকারি দফতর ও পরিবহণে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছিল এবং সেনাকে নির্দেশ অমান্য করার উস্কানি দেওয়া হচ্ছিল। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতেই ওই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।” তবে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্থগিত করা যে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর ওপর আঘাত ছিল, তাও তিনি মেনে নেন। তিনি আরও যোগ করেন, ১৯৭৭ সালে নির্বাচন ঘোষণা করে ইন্দিরা গান্ধীই গণতন্ত্রে জনতার দরবারে রায় নেওয়ার পথ খুলে দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১০ নভেম্বর সনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী ‘Belonging: A Journey Of Love’ বিশ্বজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে চলেছে। কিন্তু বই প্রকাশের আগেই জরুরি অবস্থা এবং গত ১২ বছরে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য দিল্লির রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।