ভুয়ো চিকিৎসক থেকে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি! কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিতে গিয়ে কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?

রাজ্যে দুর্নীতি ও ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত বিতর্কিত ইস্যু এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে ফের একবার রাজ্য সরকারকে চরম আক্রমণ শناলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি ভুয়ো চিকিৎসক বাছাই করতে চিকিৎসকদের নথি যাচাই করার কথা বলেছেন শারদ্বত চট্টোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের রেশ ধরেই শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, তৃণমূল জমানায় দুর্নীতিবাজদের রাখার মতো ‘এত বড় জেল নেই’, তাই তাঁরা নিজেই একটি ‘বড় জেল’ বানাচ্ছেন। কাউন্সিলর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তরের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা তছরুপের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অতীতে মনরেগা, স্বাস্থ্যসাথী, আবাস যোজনা, আমফান এমনকি মিড ডে মিলের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও অবাধে লুটপাট চালানো হয়েছে।

দুর্নীতির শেকড় কত গভীরে তা বোঝাতে গিয়ে শুভেন্দুর পরিসংখ্যান পেশ করে জানান যে, বিগত এক বছরে সরকারের ঘরে আসার মতো বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই সমস্ত দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব বের করে অভিযুক্তদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং নিলামের মাধ্যমে সেই টাকা ফের সরকারি কোষাগারে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক দলের হেভিওয়েট নেতাদের আর্থিক লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও তিনি তোপ দাগেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরের পরিস্থিতি এবং জন্মদিনের আগের রাতের বচসা নিয়েও রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু আরও তীব্র আক্রমণ শানান।

এদিকে শুভেন্দুর এই জেল বানানোর মন্তব্য এবং দুর্নীতি বিরোধী হুঙ্কারকে একেবারেই সহজভাবে নিচ্ছে না বিরোধী শিবির। সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পঞ্চায়েতের ১০০ দিনের কাজের টাকা তছরুপ কিংবা সারদা-নারদার মতো বড় কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তদের কি সত্যিই শাস্তি দেওয়ার সাহস দেখাবেন শুভেন্দু? সেলিমের দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাঁদেরই একটা অংশ বর্তমানে বিরোধী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, তাই এই ধরনের হুঙ্কার আসলে রাজনৈতিক লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়। সার্বিকভাবে ভুয়ো চিকিৎসক বাছাইয়ের আইনি পদক্ষেপ এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে বাংলার রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত।