হিং দিয়েই তৈরি করুন নিরামিষ খাসির মাংস, জেনেনিন পেঁয়াজ-রসুন ছাড়াই রান্নার পদ্ধতি

বাঙালির প্রাণের উৎসব মানেই দেদার খাওয়া-দাওয়া, রাত জেগে প্যান্ডেল হপিং আর কবজি ডুবিয়ে ভোজ। এই উৎসবের মরশুমে অনেক বাড়িতেই যেমন নিরামিষ খাওয়ার চল থাকে, তেমনই বহু বনেদি বাড়িতে দেবীর ভোগে নিরামিষ উপায়ে খাসির মাংস রান্নার প্রাচীন রীতি রয়েছে। আপনিও যদি পুজোর কদিন একটু অন্যরকম কিছু ট্রাই করতে চান, তবে বিহারের বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী ‘মৈথিলী মাংস’ হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পেঁয়াজ ও রসুন ছাড়াই তৈরি এই মাংসের স্বাদ হয় অতুলনীয়! জেনে নিন এর সহজ রেসিপি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • প্রধান উপকরণ: খাসির মাংস (মাটন) এবং টক দই।

  • মশলাপাতি: আদা বাটা, লাল লঙ্কার গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, দারচিনির গুঁড়ো, হিং এবং গোটা ছোট এলাচ ও লবঙ্গ।

  • ফোড়ন ও অন্যান্য: ঘি, সামান্য চিনি, সর্ষের তেল এবং স্বাদমতো নুন।

রান্নার সহজ পদ্ধতি

১. ম্যারিনেশন প্রক্রিয়া: প্রথমে খাসির মাংসের টুকরোগুলিতে টক দই, লাল লঙ্কার গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, সর্ষের তেল, দারচিনি গুঁড়ো, আদা বাটা এবং হিং একসঙ্গে ভালো করে মাখিয়ে নিন। কম পক্ষে ২ ঘণ্টা এটি ম্যারিনেট করে রেখে দিলে মশলা ভালোভাবে মাংসের ভেতরে ঢুকবে এবং রান্নাও দ্রুত হবে। তবে সম্ভব হলে সারারাত ফ্রিজে ম্যারিনেট করে রাখতে পারলে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন।

২. সেদ্ধ করার পর্ব: এবার একটি কড়াইতে ম্যারিনেট করা মাংস দিয়ে ঢাকা দিয়ে সেদ্ধ হতে দিন। মিনিট দশেক পর ঢাকা সরিয়ে স্বাদমতো নুন এবং পরিমাণমতো গরম জল মিশিয়ে দিন। চাইলে খুব সহজে ও দ্রুত সেদ্ধ করার জন্য মাংসটি এক কাপ গরম জলসহ প্রেশার কুকারেও দিতে পারেন।

৩. ঘি ও মশলার ফোড়ন: মাংস সেদ্ধ হয়ে গেলে পাশের গ্যাসে অন্য একটি কড়াইতে ঘি গরম করুন। তাতে এক চিমটে চিনি দিয়ে ক্যারামেল রঙ ধরলে ছোট এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনির টুকরো এবং হিং ফোড়ন দিন। চমৎকার সুগন্ধ বের হলে আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখা মাংস এই ঘিয়ে ঢেলে দিন।

৪. শেষ পর্যায়: এবার মাঝারি আঁচে মিনিট পাঁচেক ধরে মাংসটি ভালো করে কষে নিন। যখন দেখবেন ঝোলের উপর তেল ভেসে উঠেছে, তখন বুঝবেন আপনার সুস্বাদু মৈথিলী মাংস একেবারে প্রস্তুত!

গরম ভাত, বাসন্তী পোলাও কিংবা ফুলকো লুচি-পরোটার সঙ্গে এই স্পেশাল মৈথিলী মাংস পরিবেশন করলে পুজোর আড্ডায় আপনার রান্নার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবেন সবাই।