পুরোনো জট মুছে এবার সাঁড়াশি গতিতে সরকারি চাকরি! ২০২৭ সালের মধ্যে ১ লক্ষ বেকারের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার টার্গেট!

দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা এবং ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জট কাটিয়ে অবশেষে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়ার পথে হাঁটছে সরকার। ওবিসি সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে ১৪৯ জনকে নিয়োগের পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) মাধ্যমে ২০০-র বেশি কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টর নিয়োগের বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমবায় দপ্তরে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে এই নিয়োগ করা হবে এবং এই গোটা প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
লক্ষ্য ১ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া
বুধবার এক বিশেষ ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে যাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিভিন্ন কারণে আটকে ছিল, তাঁদের মেধার মূল্যায়ন করে চাকরি নিশ্চিত করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হলো, নিয়ম মেনে আগামী ২০২৭ সালের ৮ মের মধ্যে মোট ১ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬৩,৪৯৬টি পদ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।
পাশাপাশি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পিএসসি (PSC), এসএসসি (SSC), পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এবং স্টাফ সিলেকশন কমিশনের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা ও নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দিতে বিশেষ ‘জব ফেয়ার’ বা সমবায় কনভেনশনের আয়োজন করা হবে।
পুলিশ ও পঞ্চায়েত দপ্তরেও বড় নিয়োগের ছড়াছড়ি
সমবায় ক্ষেত্রের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা এবং গ্রামীণ উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই ১১ হাজারের বেশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। শনিবার লালবাজারে ৩০০-র বেশি সাব-ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে। এছাড়া, পঞ্চায়েত দপ্তরেও ৭ হাজার ১৯০ জনকে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে।
১২৫ দিনের কর্মসূচিতে কর্মসংস্থানের জোয়ার
বেকারত্ব দূর করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ১২৫ দিনের কর্মসূচির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রশাসন। এই কর্মসূচির অধীনে প্রতিদিন রাজ্যে ২২ লক্ষ মানুষকে কাজ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের বরাদ্দ অনুযায়ী এই প্রকল্পে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কাজ হবে এবং আনুমানিক ২২ কোটি কর্মদিবস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৬৫ লক্ষ ৬২ হাজার কর্মদিবস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পাশাপাশি, রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই তার রিপোর্ট পাওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বকেয়া মেটানোরও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের এই পরপর জনমুখী ও কর্মসংস্থানমুখী পদক্ষেপে রাজ্যজুড়ে আশার আলো দেখছেন তরুণ সমাজ ও চাকরিপ্রার্থীরা।