ট্রাম্পের ঔদ্ধত্যে কি ইতি? নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার বড় বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটগণনার যে ট্রেন্ড সামনে আসছে, তাতে বড়সড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি। ট্রাম্পের দু’বছরের প্রশাসনিক শাসনের কড়া মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত এই নির্বাচনে বিরোধীরা যেভাবে ফুঁসে উঠেছে, তাতে হোয়াইট হাউসের অন্দরে এখন লাল সতর্কতা জারি হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলি যে সাধারণ আমেরিকানদের চরমভাবে ক্ষুব্ধ করেছে, প্রাথমিক ট্রেন্ড তারই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসন, সেনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসন এবং ৩৬টি প্রদেশের গভর্নর পদে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, নিম্নকক্ষের ১০১টি আসনে ডেমোক্র্যাটরা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি পিছিয়ে পড়ে মাত্র ৫৫টি আসনে আটকে আছে। সেনেট নির্বাচনেও জর্জিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলিনা, ডেলাওয়্যার, নিউ জার্সি এবং ইলিনয়েসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। জর্জিয়া থেকে জন ওসফ এবং নর্থ ক্যারোলিনা থেকে প্রাক্তন গভর্নর রয় কুপার জয়লাভ করে দলের শক্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছেন। অন্যদিকে, ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামী প্রাথমিক ট্রেন্ডে পিছিয়ে পড়েছেন এবং সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টন এগিয়ে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত দুই বছরে মার্কিন মুলুকে আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক নীতি বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের জেরে সাধারণ মানুষের মনে যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই নির্বাচনে। অতীতে ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি এবং তাঁর বিতর্কিত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আমেরিকান সমাজে যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছিল, তা এখন ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হচ্ছে।

তবে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো এবার আর ফলাফল নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন বা অনমনীয় মনোভাব দেখানোর পথে হাঁটছেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার কিছু আগে হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নমনীয় সুর গেয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি আরও যোগ করেছেন যে, আমেরিকার স্বার্থে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক ও কার্যকরী সমাধানে পৌঁছাতে আশাবাদী। নিজের দলের সম্ভাব্য এই ভরাডুবির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন যে, এই নির্বাচনে তিনি সরাসরি প্রার্থী ছিলেন না। পাশাপাশি, দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সিনেটর ডারলিন গ্রাহাম এবং টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন জোগানোর সিদ্ধান্তের পক্ষেও তিনি সাফাই গেয়েছেন এবং এ নিয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই চূড়ান্ত ফলাফল আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদের নীতি নির্ধারণে যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।