মাত্র ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে হাতে পাবেন ৮৯ হাজার! পোস্ট অফিসের কোন স্কিম দিচ্ছে গ্যারান্টিযুক্ত বাম্পার রিটার্ন?

অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি, সঠিক জায়গায় তা বিনিয়োগ করাও বর্তমান দিনে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনে প্রত্যেকেই তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ এমন একটি সুরক্ষিত জায়গায় রাখতে চান, যা মূলধন সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখার পাশাপাশি দুর্দান্ত রিটার্নও নিশ্চিত করে। আপনার কাছে যদি মাত্র ২ লক্ষ টাকা জমানো থাকে, তবে আপনি তা দেশের অন্যতম বিশ্বস্ত মাধ্যম পোস্ট অফিসের বিভিন্ন ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে ৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে করতেই পারেন। এখানে আপনার প্রতিটি টাকা ভারত সরকার দ্বারা সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত থাকে, যার ফলে লগ্নির ক্ষেত্রে পুঁজি হারানোর বিন্দুমাত্র কোনো ঝুঁকি বা ভয় থাকে না। কেন্দ্র সরকার ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের জন্য এই জনপ্রিয় ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হারে কোনো পরিবর্তন করেনি, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর। সুতরাং, এই চারটি পোস্ট অফিস স্কিম এককালীন কিংবা নিয়মিত আয়ের সুব্যবস্থা করার জন্য অত্যন্ত ফলদায়ক প্রমাণিত হতে পারে।

আপনি যদি কোনো ঝামেলা ছাড়াই এককালীন বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি নিশ্চিত ও ভারী মুনাফা ঘরে তুলতে চান, তাহলে পোস্ট অফিসের ৫-বছর মেয়াদী টাইম ডিপোজিট (Time Deposit) বা আমানত প্রকল্পটি একটি দারুণ বিকল্প। এই স্কিমে বর্তমানে আকর্ষণীয় বার্ষিক ৭.৫% হারে সুদ অফার করা হচ্ছে। যদিও প্রতি তিন মাস অন্তর সুদের হিসাব কষা হয়, তবে সেই লভ্যাংশের টাকা বার্ষিক ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। যদি কোনো বিনিয়োগকারী এই প্রকল্পে ২ লক্ষ টাকা জমা রাখেন, তবে মেয়াদ শেষে অর্থাৎ ৫ বছর পর তিনি সুদ সমেত মোট ২,৭৭,১৩৬ টাকা ফেরত পাবেন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আপনার মূল ২ লক্ষ টাকা থেকে সরাসরি প্রায় ৭৭,১৩৬ টাকা অতিরিক্ত সুদ হিসেবে আয় হবে।

অন্যদিকে, যাঁরা পাঁচ বছর পর এককালীন একটি বড় অঙ্কের টাকা হাতে পেতে চান, তাঁদের জন্য পোস্ট অফিসের ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা এনএসসি (NSC) একটি চমৎকার সুযোগ নিয়ে আসে। এই স্কিমটি বর্তমানে আকর্ষণীয় বার্ষিক ৭.৭% হারে সুদ প্রদান করে থাকে। এই বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো, এতে চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compound Interest) দুর্দান্ত সুবিধা পাওয়া যায় এবং মেয়াদপূর্তিতে সম্পূর্ণ টাকা একসঙ্গে হাতে আসে। যদি কেউ এই স্কিমে ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে পাঁচ বছর পর তিনি প্রায় ২,৮৯,৮০৭ টাকা পাবেন। এর সহজ অর্থ হলো, আপনি প্রায় ৮৯,৮০৭ টাকার একটি বড় অঙ্কের লাভ ঘরে তুলছেন। এছাড়াও, যাঁরা পুরোনো কর ব্যবস্থা বেছে নেন, তাঁরা আয়করের নির্ধারিত সীমার মধ্যে আকর্ষণীয় কর ছাড়ের সুবিধাও ভোগ করতে পারেন।

তবে অনেকের ক্ষেত্রেই এককালীন বড় অঙ্কের টাকার পরিবর্তে নিয়মিত ছোট ছোট মাসিক আয়ের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এমন নির্দিষ্ট আর্থিক চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য পোস্ট অফিস মান্থলি ইনকাম স্কিম বা এমআইএস (MIS) অত্যন্ত উপযোগী প্রমাণিত হতে পারে। এই স্কিমের অধীনে সরকার বর্তমানে বার্ষিক ৭.৪% হারে সুদ প্রদান করছে। আপনি যদি এই প্রকল্পে ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে প্রতি মাসে আপনার অ্যাকাউন্টে প্রায় ১,২৩৩ টাকা সুদ হিসেবে জমা হবে। এইভাবে হিসেব করলে, পাঁচ বছরের পুরো মেয়াদে আপনি শুধুমাত্র সুদ বাবদ মোট ৭৪,০০০ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। আর মেয়াদের শেষে, আপনার আসল ২ লক্ষ টাকার সম্পূর্ণ মূলধনও আপনাকে নিরাপদে ফেরত দেওয়া হবে।

বিশেষ করে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে সরকার চালু করেছে সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS), যা বয়স্কদের জন্য অন্যতম সেরা বিকল্প। উল্লিখিত চারটি জনপ্রিয় স্কিমের মধ্যে এই স্কিমে সর্বোচ্চ ৮.২% বার্ষিক সুদের হার অফার করা হয়। এখানে ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রবীণ নাগরিকরা প্রতি তিন মাসে নির্দিষ্টভাবে ৪,১০০ টাকা করে সুদ পেয়ে থাকেন। যার ফলে পাঁচ বছরে মোট অর্জিত সুদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮২,০০০ টাকা। মেয়াদপূর্তি হওয়ার পর, ২ লক্ষ টাকার মূল মূলধনও সম্পূর্ণ নিরাপদে লগ্নিকারীর হাতে ফেরত দেওয়া হয়।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, যেকোনো বিনিয়োগের বিকল্প বেছে নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য ও প্রয়োজনগুলোকে পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদি আপনার পাঁচ বছর পর এককালীন একটি বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয়, তবে আপনার জন্য এনএসসি (NSC) বা টাইম ডিপোজিট বিবেচনা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যদিকে, দৈনন্দিন বা নিয়মিত ঘরের খরচ মেটানোর জন্য এমআইএস (MIS) এবং এসসিএসএস (SCSS)-এর জুড়ি মেলা ভার। তবে, যেকোনো জায়গায় বিনিয়োগ করার আগে সুদের আয় থেকে প্রযোজ্য কর বিধিগুলি সম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া উচিত।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty