ট্রাকের চাকায় পিষে পুলিশ ইনচার্জ খুন! মধ্যপ্রদেশের লোমহর্ষক এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ দুই অভিযুক্ত

মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় এক পুলিশ ইনচার্জকে ট্রাকের চাকায় পিষে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় সামনে এল। পুলিশ আধিকারিক দিলীপ পুরীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দুই মূল অভিযুক্ত পুলিশি এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করার সময় তাঁরা পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি চালালে, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা জবাব দেয় পুলিশ। দুই অভিযুক্তের পায়েই গুলি লেগেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত সোমবার ভোরে। গোপন সূত্রে অবৈধ মদ পাচারের খবর পেয়ে ইন্দোর-বেতুল জাতীয় সড়কে অভিযানে নেমেছিলেন বাগলির স্টেশন হাউস অফিসার (এসআই) দিলীপ পুরী। ওই সময় গুজরাতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া প্রায় ১,৮০০ লিটারেরও বেশি অবৈধ মদ বোঝাই একটি বেপরোয়া ট্রাককে আটকান তিনি। কিন্তু চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়ই পরিস্থিতি মারাত্মক মোড় নেয়। অভিযোগ, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ট্রাকটিকে ডিভাইডারের ওপর তুলে দেয় চালক এবং সজোরে দিলীপ পুরীর ওপর দিয়ে ট্রাকটি চালিয়ে দেয়। পিছনের চাকা পিষে দিয়ে ঘটনাস্থলেই করুণ মৃত্যু হয় ওই কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকের।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিল অভিযুক্ত ট্রাকচালক গজেন্দ্র ওরফে আক্কু রাওয়াত (২৮)। পুলিশ সুপার আদিত্য মিশ্র জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আলিরাজপুর জেলা থেকে গজেন্দ্রকে পাকড়াও করা হয়। কিন্তু দেওয়াসে থানায় ফিরতি পথে বরোঠা থানা এলাকায় ঘটে আসল নাটক। পুলিশি হেফাজত থেকে আকস্মিক পালানোর চেষ্টা করে গজেন্দ্র। অভিযোগ, এক পুলিশকর্মীর রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে সে সোজা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আত্মরক্ষায় বাধ্য হয়ে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গুলিতে তার পায়ে আঘাত লাগে। প্রথমে দেওয়াস জেলা হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসা শুরু হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি ইন্দোরের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

অন্যদিকে, দেওয়াসের সিটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (সিএসপি) সুমিত আগরওয়াল জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ওই ট্রাকে গজেন্দ্রর সঙ্গে উপস্থিত থাকা অপর অভিযুক্ত ধীরজকেও পুলিশ গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ব্যাঙ্ক নোট প্রেস থানা এলাকার হেফাজতে থাকাকালীন সেও একই কায়দায় পালানোর চেষ্টা চালায়। পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে সেও গুলি চালায় বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সে গুলি চালানো বন্ধ না করায় বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এতে তার পায়েও গুলি লাগে। আহত ধীরজকে বর্তমানে দেওয়াস জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে করা হয়েছে কঠোর পুলিশি পাহারা। এই রোমহর্ষক এনকাউন্টারের ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।