সিক্রেট রুমে বসেও খেল ঘোরাচ্ছেন নন্দিনী! বিগ বসের ঘরে ভূত চতুর্দশীর রাতে কী এমন ঘটল যে ভয়ে দৌড়ে পালালেন প্রতিযোগীরা?

ভূত চতুর্দশীর ভৌতিক আবহে জমে উঠেছে ‘বিগ বস বাংলা’-র অন্দরমহল। গত ২ নভেম্বর সোমবার প্রচারিত ৬৪তম পর্বে ঘরের পরিবেশ পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিল এক গা ছমছমে টাস্ক। একদিকে সিক্রেট রুমে বসে বাকিদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন নন্দিনী দত্ত, অন্যদিকে ভূতের ভয়ে তটস্থ প্রতিযোগীরা। সব মিলিয়ে এবারের এপিসোড দর্শকদের টানটান উত্তেজনার খোরাক জুগিয়েছে।
ভোটের সমীকরণে রবিবার এভিকশন টুইস্টে অপ্রত্যাশিতভাবে গোপন কক্ষে পাঠানো হয়েছিল নন্দিনী দত্তকে। বর্তমানে তিনি সিক্রেট রুমের বিশেষ ক্ষমতা এবং এক্সক্লুসিভ পাওয়ার উপভোগ করছেন। বাকি সদস্যদের অগোচরে থেকে তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন ঘরের প্রতিটি কোণের চালচলন। বিশেষ করে, তাঁর বিদায়ের পর রাজবীরের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার প্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য প্রতিযোগীদের স্ট্র্যাটেজি খুব কাছ থেকে দেখছেন তিনি। ঘরের বাইরে বা ভেতরে না থেকেও খেলায় তাঁর এই রিমোট কন্ট্রোলিং ভূমিকা দর্শকদের জন্য দারুণ রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে।
এদিকে, সোমবারের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ভূত চতুর্দশী উপলক্ষে বিগ বসের এক নিখুঁত প্র্যাঙ্ক ও ভৌতিক টাস্ক। ঘরের বায়ুমণ্ডল হঠাৎই ভয়ে ভারী হয়ে ওঠে যখন প্রতিযোগী নিরঞ্জনের ঠিক সামনের আয়নায় আচমকা একটি বিকৃত ভূতের মুখ ভেসে ওঠে। এই অতর্কিত হামলায় প্রচণ্ড ভয় পেয়ে আর্তনাদ করে ওঠেন নিরঞ্জন। তাঁর সেই চিৎকার শুনে ঘর থেকে ভয়ে ছুটে পালিয়ে যান তনুশ্রী রায়ও। একে একে অন্য প্রতিযোগীরাও ভয়ে সিঁটিয়ে যান। এমনকী ভয়ের আবহ কাটাতে সজাগ সৌরভ গাইতে শুরু করেন ‘ভূত আমার পূত’ গানটি। আতঙ্কিত নিরঞ্জন বাকিদের একা না থেকে দলবদ্ধভাবে থাকার পরামর্শ দেন। প্রতিযোগীদের এই খুনসুটি ও ভয়ের সম্মিলিত রূপ দর্শকদের দারুণ বিনোদন জোগায়।
তবে রাতের এই হাসিখুশি ও ভয়ের পরিবেশের মাঝেই সোমবারের পর্বে আসে সবথেকে বড় ধাক্কা—ওপেন নমিনেশন প্রক্রিয়া। বিগ বসের নির্দেশমতো প্রতিযোগীদের একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সরাসরি কারণ দর্শিয়ে নমিনেট করতে হয়। এই প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে শাস্তি বা প্রতীক হিসেবে একে অপরকে লঙ্কার মালা পরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সমস্ত জল্পনা ও স্ট্র্যাটেজির সংঘাত পেরিয়ে এই সপ্তাহের ওপেন নমিনেশন প্রক্রিয়ার শেষে বিপদের মুখে এসে দাঁড়িয়েছেন রাজবীর দে, সৃজলা গুহ, তনুশ্রী রায় এবং রণিতা দাশ।
বর্তমানে এই চার প্রতিযোগী রয়েছেন ডেঞ্জার জোনে। তবে শোয়ের অন্দরের খেলার পাশাপাশি বাইরে শুরু হয়ে গিয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বর্তমান লাইভ ভোটিং ট্রেন্ডের প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, রাজবীর দে ও সৃজলা গুহ আপাতত কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে থাকলেও বিপদের খাঁড়া ঝুলছে তনুশ্রী রায় এবং রণিতা দাশের মাথার ওপর। কে টিকবে আর কার কপালে ঝুলবে বিদায়ঘণ্টা, তা নিয়ে এখন থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়ছে ভক্তমহলে।