‘ও গান গায়, আমি কিছু জানি না!’ গ্রেফতার হতেই ইন্দ্রনীলের ওপর সব দায় চাপালেন স্ত্রী, পুজো পাস কাণ্ডে মারাত্মক মোড়!

প্রথমে জনপ্রিয় গায়ক, তারপর রাজনীতিতে হাতেখড়ি এবং পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের মন্ত্রিত্ব—ইন্দ্রনীল সেনের বর্ণময় ক্যারিয়ারে এবার সবচেয়ে বড় দাগ। বেআইনিভাবে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে। তবে তদন্তকারীদের জেরা শুরু হতেই দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে নিজের ‘গায়ক’ পরিচয়কেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন এই প্রাক্তন মন্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেরার মুখে ইন্দ্রনীল দাবি করেছেন যে তাঁর যে পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ জমা পড়েছিল, তার পুরোটাই নাকি এসেছে তাঁর বিভিন্ন গানের স্টেজ শো থেকে! তবে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে অন্য চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২২ সালের পর থেকে যখন ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দার সংস্থা ‘মাস আর্ট’ দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি শুরু করে, ঠিক তারপর থেকেই রহস্যজনকভাবে মোটা অঙ্কের টাকা জমা পড়তে শুরু করে ইন্দ্রনীলের ওই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে। অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট পরীক্ষা করে এই তথ্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তকারীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে অন্য একটি বিষয়। ওই পাঁচটি অ্যাকাউন্টে বর্তমানে যে পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে, তা অত্যন্ত সামান্য। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অনুমান, দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আগেই ইন্দ্রনীল কৌশলে সেই মোটা অঙ্কের টাকা অন্য কোনো বেনামী অ্যাকাউন্টে বা স্থানে সরিয়ে ফেলেছেন। বর্তমানে সেই গায়েব হওয়া বিপুল অর্থের আসল গন্তব্য খুঁজে বের করতেই জোর তল্লাশি চালাচ্ছে লালবাজার।
এদিকে, এই হাইপ্রোফাইল কেলেঙ্কারিতে নতুন মোড় এনেছেন ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা নিজেই। লালবাজারে তলব করার পর জেরায় তিনি একপ্রকার নিজের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলে স্বামীর ঘাড়েই সমস্ত দায় চাপিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে দাবি, মধুছন্দা স্পষ্ট জানান যে ইন্দ্রনীল সেন নিজের মর্জি মতো কাজ করতেন এবং কারও কথায় কান দিতেন না। স্বামীর আইনি জালে জড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই স্ত্রীর এই বিস্ফোরক বয়ান গোটা তদন্ত প্রক্রিয়ায় মারাত্মক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।