বিমানের ভাড়া ৭০০% বাড়তেই আদালতের শোরগোল! ‘তাহলে বিমানে চড়বেন না’, সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে তোলপাড়

উৎসবের মরশুমে দেশের একাধিক রুটে বিমানের টিকিট কাটতে গিয়ে রীতিমতো ছেঁকা খাচ্ছেন আমজনতা। উৎসব ও জরুরি সহায়তার দিনগুলিতে আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলে দায়ের হয়েছিল মামলা। কিন্তু সেই আবেদনের জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করতে রাজি হলো না সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এই সংক্রান্ত বিষয়টি বেঞ্চের দৃষ্টিগোচর করা হলে বিচারপতির সাফ মন্তব্য— “তাহলে বিমানে চড়বেন না”।
এজলাসে আইনজীবীর সওয়াল ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
সোমবারে বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দ্বীপ মেহতা ও বিচারপতি অপারেশ কুমার সিংয়ের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের সামনে আবেদনকারীর আইনজীবী বিষয়টি জরুরি শুনানির জন্য উত্থাপন করেন। আইনজীবী আদালতে তুলে ধরেন যে, বর্তমানে বিভিন্ন জনপ্রিয় অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের টিকিট ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে।
আইনজীবী সওয়ালে বলেন, “বর্তমানে বিমান পরিষেবা একটি বিলাসবহুল বিষয় নয়, এটি বহু মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক ও অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবায় পরিণত হয়েছে। এভাবে ইচ্ছেমতো বিপুল পরিমাণ ভাড়া বাড়ানো সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে এবং দেশের সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে দেওয়া সমানাধিকারের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।”
তবে আবেদনকারীর এই যুক্তিতে কর্ণপাত না করে সংক্ষেপে সওয়াল খারিজ করে দেন বিচারপতির বেঞ্চ। বিচারপতি বিক্রম নাথ বিরক্তি প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, “ঠিক আছে, তাহলে বিমানে উঠবেন না। পরবর্তী মামলা নিন।” এর পরেই আদালত পরবর্তী মামলার শুনানিতে চলে যায়।
বিমানে অতিরিক্ত ভাড়া ও নিয়ন্ত্রণ নীতি
উৎসবের দিনে টিকিটের অতিরিক্ত দাম ও সংস্থাগুলির ডাইনামিক প্রাইসিং বা অ্যালগরিদম নির্ভর দাম বাড়ানোর নীতি নিয়ে দেশে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল থেকেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির দাবি উঠেছে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক ও ডিজিসিএ বিমান ভাড়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নতুন নিয়ম নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আগামী ২০২৭ সালের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।