কৃষ্ণকে নিয়ে চরম বিতর্কিত মন্তব্য! ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অখিলেশ, তদন্তের দাবি

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে বাগেশ্বর ধামের পীঠাধীশ্বর পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। এই ঘটনাকে “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও আপত্তিকর” আখ্যা দিয়ে ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি।
“সনাতন সমাজের ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র”
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) অখিলেশ যাদব ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর নাম না করে তোপ দেগে লিখেছেন, রাজনৈতিক মদতপুষ্ট এক ব্যক্তি সনাতন সমাজের অভ্যন্তরীণ মেলবন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার এক নিন্দনীয় খেলায় মেতে উঠেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সনাতনপন্থীদের ঐক্য ভাঙার এই চক্রান্তে দেশীয় নাকি কোনো বহিরাগত শক্তি জড়িত—তা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
অবতারদের মধ্যে তুলনার উদ্দেশ্য কী?
অখিলেশ যাদব জোর দিয়ে বলেন, শ্রীরামচন্দ্র (লোকরক্ষক) এবং শ্রীকৃষ্ণ (লোকরঞ্জক) একই পরমেশ্বরের ভিন্ন অবতার। নিজ নিজ যুগ ও সময়কাল অনুসারে তাঁদের লীলা সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের মধ্যে অযাচিত ও অবমাননাকর তুলনা টেনে একজনকে অন্যজনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা অত্যন্ত মর্যাদাহানিকর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন:
“একজন প্রকৃত সনাতনী কখনো নবমী ও অষ্টমীর মধ্যে ভেদাভেদ করেন না; উভয় অবতারকেই সমান শ্রদ্ধায় আরাধনা করেন। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত তুলনা কেবল ভারতের সনাতন সমাজকেই ব্যথিত করেনি, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ভক্তের অনুভূতিতেও গভীর আঘাত হেনেছে।”
শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি
সমাজবাদী পার্টি প্রধান সাফ জানান, এমন অবমাননাকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের পেছনে ঠিক কী যুক্তি রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে স্পষ্ট করতে হবে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং সামাজিকভাবে বিভাজন সৃষ্টির এই চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও শাস্তিমূলক আইনি পদক্ষেপের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।