অবৈধ মদ ধরতে গিয়ে হাইওয়েতে রোমহর্ষক পরিণতি! খাকি পোশাককে পিষে দিল মদ্যপ পাচারকারীদের গাড়ি!

মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় অবৈধ মদ পাচার রুখতে গিয়ে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য পুলিশ। ইন্দোর-বেতুল হাইওয়েতে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় অবৈধ মদের একটি দ্রুতগামী গাড়ি এক পুলিশ আধিকারিককে নির্মমভাবে পিষে দেয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর করুণ মৃত্যু হয়। এই নৃশংস ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নিহত পুলিশ আধিকারিকের নাম দিলীপ পুরী, যিনি হাতেগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রবিবার গভীর রাতে ইন্দোর-বেতুল হাইওয়ে দিয়ে অবৈধ মদের একটি বড় চালান পাচার হওয়ার গোপন খবর পান তিনি। এই খবর পাওয়ার পরেই তিনি তড়িঘড়ি পুলিশ বাহিনী নিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছান এবং গাড়িটিকে থামানোর জন্য তৎপর হন। কিন্তু পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মদের গাড়িটি সজore অফিসারকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। গাড়িটির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন ওসি দিলীপ পুরী। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি, পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে ঘাতক অবৈধ মদের গাড়িটিকে আটক করা হয়েছে এবং চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ আধিকারিককে খুন করার উদ্দেশ্যে গাড়িটি তাঁর ওপর চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে বিশদ তদন্ত শুরু হয়েছে। দেওয়াস জেলায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মদের রমরমা কারবার চলছে, যা খোদ পুলিশের নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে এই অঞ্চলেই বিষমদ কাণ্ডে কমপক্ষে ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল এবং অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, অজয় রাঠোর নামের এক মূল অভিযুক্ত ইন্টারনেট বা এআই (AI) টুলের সাহায্য নিয়ে কম খরচে ঘরোয়া পদ্ধতিতে বিষাক্ত মদ তৈরির ফর্মুলা বের করেছিল। ইন্দোরের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক সংগ্রহ করে পুরনো বোতলে তা ভরে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করা হতো। এই অবৈধ চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিলেও বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির করুণ ছবিটাই তুলে ধরছে। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকের এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পুলিশ বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।