ইউপি টেট প্রার্থীদের জন্য মেগা আপডেট! ২০২৭-এর ফেব্রুয়ারিতেই কি বদলে যাচ্ছে পরীক্ষার সমস্ত সমীকরণ?

উত্তর প্রদেশে শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা বা ইউপি টেট (UP TET 2027)-এর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষারত লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীদের জন্য অত্যন্ত সুখবর নিয়ে এল উত্তর প্রদেশ শিক্ষা পরিষেবা নির্বাচন কমিশন (UPESSC)। আগামী বছর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই ইউপি টেট সফলভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করেছে কমিশন। এই সম্পর্কিত একটি বিস্তারিত প্রস্তাবিত সময়সূচী সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে এলাহাবাদ হাইকোর্টে পেশ করেছে ইউপিইএসএসসি। শুধু তাই নয়, হাইকোর্টে পেশ করা এই বিশেষ তথ্য থেকে আরও বড় একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, আগামী দিনগুলিতে উত্তর প্রদেশে প্রতি বছর নিয়ম করে দুবার করে টেট পরীক্ষা পরিচালনা করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে প্রশাসন।

আইনজীবী ও পরীক্ষার্থীদের একাংশের মতে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে চলমান একটি নির্দিষ্ট পিটিশনের শুনানির সময় আদালতের নির্দেশেই এই প্রস্তাবিত সময়সূচী জমা দেওয়া হয়। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহের দিকেই এই শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। শুধু পরীক্ষা নেওয়া নয়, বরং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে খাতা মূল্যায়ন করে ওই একই বছরের মে মাসের মধ্যেই ইউপি টেট ২০২৭-এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, উত্তর প্রদেশে বর্তমানে ট্রেন্ডড গ্র্যাজুয়েট টিচার বা টিজিটি (TGT) পদের জন্য বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউপিইএসএসসি নন-টিইটি (non-TET) প্রার্থীদের জন্য একটি বড় শর্তসাপেক্ষ ছাড় দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাঁরা এখনও টেট পাস করেননি, এমন প্রার্থীরাও টিজিটি নিয়োগ ২০২৬-এর জন্য আবেদন করতে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে এই বিশেষ ছাড় পাওয়ার জন্য সমস্ত প্রার্থীকে আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে টেট পাস করে সার্টিফিকেট অর্জন করতে হবে। সেই দিক থেকেই বিচার করলে, ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলা ইউপি টেট ২০২৭ পরীক্ষাটি এই সমস্ত নন-টিইটি প্রার্থীদের কাছে অত্যন্ত জীবনমুখী ও નિર્ણায়ক হয়ে উঠতে চলেছে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সেন্ট্রাল বা এনসিটিই (NCTE)-এর দীর্ঘদিনের নির্দেশিকা এবং এনসিইটি-এর গাইডলাইন মাথায় রেখে এবার থেকে উত্তর প্রদেশে প্রতি শিক্ষাবর্ষের জুলাই এবং জানুয়ারি মাসে—অর্থাৎ বছরে দুইবার করে নিয়ম মাফিক টেট পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে কমিশন। উল্লেখ্য, এর আগে সুদীর্ঘ ২০১১ সাল থেকে উত্তর প্রদেশে কখনো বছরে দুবার টেট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার নজির নেই। ফলে শিক্ষা মহলের মতে, কমিশনের এই নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা শিক্ষক হওয়ার জন্য বছরে একাধিকবার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।