হরিদেবপুরে মধ্যরাতে রক্তগঙ্গা! দোকানেই রক্তাক্ত প্রমোটার, নেপথ্যে নিজের চেনা মানুষ?

উৎসবের আবহেই দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুর থানা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য। মঙ্গলবার গভীর রাতে এক বিল্ডিং প্রমোটার তথা ইমারতি ব্যবসায়ী প্রদীপ মণ্ডলকে (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল। হরিদেবপুরের উদয়াচল রামকান্তপুর এলাকার এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রদীপবাবু পেশায় স্থানীয় একজন প্রমোটার এবং ইমারতি সামগ্রী সরবরাহকারী (বিল্ডিং মেটেরিয়াল সাপ্লায়ার)।
রাত ১২টায় ফোন, দোকানে গিয়ে শিউরে উঠলেন পরিজনেরা!
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে প্রদীপবাবু সময়মতো বাড়ি না ফেরায় রাত বারোটা নাগাদ তাঁকে একাধিকবার ফোনে পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো সাড়া না মেলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পরিজনেরা তাঁর খোঁজে বের হন। শেষমেশ এলাকায় তাঁর নিজের দোকানে গিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন তাঁরা। রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় দোকানের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায় প্রদীপবাবুকে।
তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন। বর্তমানে এসএসকেএমের আইসিইউ-তে (ICU) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পেটে গভীর ক্ষত তৈরি করা হয়েছে।
পুলিশের হাতে গ্রেফতার বন্ধু!
ঘটনায় কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় প্রদীপবাবুরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু গোপালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার রাতে গোপালই এক প্রতিবেশীকে ফোন করে জানান যে প্রদীপকে কেউ মারধর করেছে। কিন্তু প্রদীপবাবুর পরিবারের অভিযোগ, ওই রাতে গোপাল প্রদীপের সাথেই ছিলেন এবং তিনি পুরো বিষয়টি ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই গোপালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বুধবার অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুরনো কোনো ব্যবসায়িক শত্রুতা নাকি ব্যক্তিগত টানাপোড়েন থেকে এই প্রাণঘাতী হামলা, তা জানতে তদন্ত জারি রেখেছে হরিদেবপুর থানার পুলিশ।