১৮ হাজার অগ্নিবীরের ভাগ্য বদলালো রাতারাতি! মোদী সরকারের সবচেয়ে বড় ধামাকা ঘোষণা

সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী দেশের লাখ লাখ যুবকের জন্য বিরাট কেন্দ্র সরকারের বড়সড় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ‘অগ্নিপথ’ (Agnipath Scheme) প্রকল্পে এক অভূতপূর্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরের চাকরির মেয়াদ আরও দুই বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার দেশের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। প্রথম ব্যাচের প্রায় ১৮ হাজার অগ্নিবীর সশস্ত্র বাহিনী থেকে চার বছরের মেয়াদ শেষে অবসর নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই কেন্দ্র এই বিরাট পদক্ষেপ নিল।
কী বড় পরিবর্তন এলো অগ্নিপথ প্রকল্পে?
২০২২ সালের ১৪ই জুন যখন প্রথম ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প চালু করা হয়, তখন নিয়ম ছিল চার বছরের সেবা শেষে ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে মেধাতালিকার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীতে স্থায়ী (নিয়মিত) করা হবে। আর বাকি ৭৫ শতাংশকে এককালীন আর্থিক প্যাকেজ দিয়ে বিদায় জানানো হতো।
তবে নতুন পরিবর্তিত নিয়মে:
২ বছরের অতিরিক্ত মেয়াদ (Second Tour of Duty): যেসব ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরের চার বছরের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, তাঁদের এখনই বাদ দেওয়া হবে না। বরং তাঁদের চাকরির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে মোট ৬ বছর করা হচ্ছে।
স্থায়ী চাকরির নতুন সুযোগ: এই অতিরিক্ত দুই বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, যে সমস্ত অগ্নিবীর স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে থাকতে চাইবেন, নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও পারফরম্যান্স পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের স্থায়ীভাবে নিয়মিত সৈনিক হিসেবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে বহাল করার পথ খুলে দেওয়া হলো।
সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও গতিশীলতা
চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি জানান, চার বছর ধরে অগ্নিবীরদের কাজের মূল্যায়ন অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় পাওয়া গেছে। সেই প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতেই সরকারের এই নতুন রূপরেখা।
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আন্তরিক স্বাগত জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও তরুণ, শারীরিকভাবে সক্ষম, প্রযুক্তিনির্ভর এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে তোলার দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারেরই একটি অংশ।”
সরকারের এই নতুন নীতির ফলে চার বছর পর চাকরি হারানোর যে আশঙ্কা তরুণদের মনে ছিল, তা বহুলাংশে দূর হলো এবং ভারতীয় সেনায় স্থায়ীভাবে পরিষেবা দেওয়ার এক বড় দরজা খুলে গেল।