কল্পবিজ্ঞানের ছবি নয়, বাস্তবেই আকাশে উড়লেন চিনের ‘গ্রিন গবলিন’! ২৬ বছরের যুবকের কাণ্ড দেখে থ বিশ্ব!

কল্পবিজ্ঞানের সিনেমা বা সায়েন্স ফিকশনের পর্দায় সুপারহিরোদের ম্যাজিক বোর্ডে চড়ে শূন্যে ভেসে বেড়াতে দেখার দৃশ্যটি ছোট থেকেই আমাদের সকলের কাছেই অত্যন্ত আকর্ষক ও বিস্ময়কর ঠেকেছে। সিলভার স্ক্রিনের সেই কাল্পনিক স্বপ্নকেই এবার বাস্তবে রূপ দিয়ে সারা বিশ্বে রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন চিনের ২৬ বছর বয়সী দূরদর্শী তরুণ সং জিংয়ু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যিনি ‘অ্যামেজিং আই’ নামে অত্যন্ত পরিচিত। মাত্র দুই মাসের কঠোর ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি এমন একটি অত্যাধুনিক হোভারবোর্ড বা উড়ন্ত বোর্ড তৈরি করেছেন, যা একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে সত্যিই বাতাসের বুকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম। সম্প্রতি ইয়াংজি নদী এবং দুর্গম পাহাড়ের বুক চিরে তাঁর এই আকাশচুম্বী ও রোমাঞ্চকর উড়ানের দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছেন বিশ্ববাসী।
তবে সং জিংয়ুর এই সাফল্যের পথটি গোলাপ বিছানো ছিল না, বরং তা ছিল চরম প্রতিকূলতা ও সংগ্রাম ভরা। নিতান্তই সাধারণ একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া সং মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে বাবার ছোট কারখানায় কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে নিজের স্বপ্নের ল্যাব তৈরি করার জন্য তিনি ব্যাংক থেকে লোন নেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি আর্থিক প্রতারণার শিকার হন এবং বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। জীবনের চরম সেই সংকটজনক মুহূর্তেও তিনি হার না মানা মানসিকতা বজায় রেখে ভাঙাচোরা জিনিসপত্র নিয়ে নিজের কাজ চালিয়ে যান। এরপর তাঁর এই অসাধারণ প্রতিভা ও জেদ দেখে ‘ইন্সটা৩৬০’ নামের একটি স্বনামধন্য প্রযুক্তি সংস্থা তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় এবং আর্থিক সাহায্য করে, যার হাত ধরেই তাঁর সুপ্ত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার সুযোগ পায়।
সং-এর প্রতিটি আবিষ্কার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বরাবরই অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং জীবনসংহারী স্টান্টে ভরপুর। বিগত বছরে তিনি একটি চলন্ত গরম বাতাসের বেলুনে আকাশে ওড়ার সময় তার মাঝেই গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে ডিম ও স্যান্ডউইচ রান্না করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া একবার তিনি একটি জেট-চালিত বিশেষ যন্ত্র পরে আকাশ থেকে প্রায় ৫,০০০ মিটার উচ্চতা থেকে নিচে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। কিন্তু সবথেকে বড় বিপদের বিষয় হলো, সেই সময় তাঁর প্রধান প্যারাসুটটি খুলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। মাটির থেকে মাত্র ৬০০ মিটার ওপরে যখন তাঁর ব্যাকআপ বা দ্বিতীয় প্যারাসুটটি খোলে, কেবল তখনই অলৌকিকভাবে তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরেন। এমনকি সেই ঝুঁকিপূর্ণ লাফ দেওয়ার আগে তিনি নিজের অন্তিম উইল পর্যন্ত লিখে রেখে গিয়েছিলেন।
জনপ্রিয় মার্ভেল কমিক্সের চরিত্র স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয় খলনায়ক ‘গ্রিন গবলিন’-এর আইকনিক উড়ন্ত বোর্ড থেকেই মূলত এই অভিনব হোভারবোর্ড তৈরির ভাবনাটি মাথায় এসেছিল তাঁর। শুরুর দিকে এই প্রোটোটাইপ বোর্ডটি তৈরির সময় বহুবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা বিকল হয়ে যায় এবং একাধিকবার তাতে আগুনও ধরে গিয়েছিল, কিন্তু সং কখনোই হাল ছাড়েননি। পুরনো ও সেকেলে টার্বোজেট প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে তিনি আধুনিক ইলেকট্রিক মোটর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির এক নিখুঁত সংমিশ্রণ ঘটান। তাঁর এই নতুন উন্নত হোভারবোর্ডটি এতটাই শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ যে এটি কোনো রকম বেগ পাওয়া ছাড়াই একবারে চারজন মানুষের সম্মিলিত ওজন অনায়াসে বহন করতে সক্ষম।