এক ধাক্কায় ৩,২০০ টাকা সস্তা সোনা! রুপোর দামেও ধস, ১ নভেম্বরেই মধ্যবিত্তের জন্য বিরাট সুখবর নাকি বিপদ?

আপনি যদি এই উৎসবের মরশুমে বা বিয়ের কেনাকাটার জন্য সোনা কিংবা রুপো কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতু দুটির দামের পতন অব্যাহত রয়েছে এবং নভেম্বরের শুরুটা ক্রেতাদের জন্য চমকপ্রদ হলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ হতাশাজনক প্রমাণিত হলো।
আজ, রবিবার (১ নভেম্বর, ২০২৬) ভারতে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে এক লাফে ৩,২০০ টাকা কমেছে। শুধু সোনাই নয়, দরপতনের প্রভাব পড়েছে রুপোর ওপরেও। প্রতি কিলোগ্রামে রুপোর দাম ৪,২০০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এই ধারাবাহিক পতনের ফলে উভয় ধাতুর দর এখন ডিসেম্বর ২০২৫-এর স্তরে পৌঁছে গেছে।
কেন সোনার বাজারে এই অস্বাভাবিক চাপ?
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির তথ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) কড়া সুদের হার নীতির কারণেই বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সোনার দাম উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং শিল্পখাতে চাহিদা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা রুপোর উজ্জ্বলতাও অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।
১ দিনে সোনার দাম ৩,২০০ টাকা হ্রাস
রবিবার, ১ নভেম্বর ভারতে ৯৯.৯% বিশুদ্ধ সোনার দাম (সমস্ত স্থানীয় কর ও জিএসটি সহ) প্রতি ১০ গ্রামে ৩,২০০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১,৪২,০০০ টাকা। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (PTI)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এর আগে শুক্রবার সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৫,২০০ টাকায় বন্ধ হয়েছিল।
বর্তমান এই হ্রাসপ্রাপ্ত দর সোনাকে সরাসরি ডিসেম্বর ২০২৫-এর স্তরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে, যখন ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল প্রায় ১,৪২,৩০০ টাকা। চলতি বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর সোনার যে অনবদ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল, এই পতন স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে বাজারে এখন মন্দার হাওয়া।
রুপোর দাম ৪,২০০ টাকা কমে ১.৮৬ লক্ষ টাকায়
সোনার পাশাপাশি রুপোর বাজারেও একই ধরনের তীব্র ধস লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার সমস্ত কর সহ প্রতি কেজি রুপোর দাম ৪,২০০ টাকা কমে নেমে এসেছে ১,৮৬,০০০ টাকায়। এর আগে প্রতি কেজি রুপো ১,৯০,২০০ টাকায় বিকোচ্ছিল। যদিও ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রুপোর দাম ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে চূড়ায় পৌঁছেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই জোয়ার পুরোপুরি থমকে গেছে।
উল্লেখ্য, রুপোর দর দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর সরাসরি নির্ভর করে—প্রথমত, সোনার মতোই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে এবং দ্বিতীয়ত, ইলেকট্রনিক্স, সৌর প্যানেল সহ একাধিক বৃহৎ শিল্পখাতে এর ব্যাপক ব্যবহার। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিল্পখাতে চাহিদা নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় রুপোর বাজারে এই বড়সড় পতন ঘটে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এখন বড় প্রশ্ন হলো—নভেম্বরের বাকি দিনগুলোতে সোনা ও রুপো কি ফের ঘুরে দাঁড়াবে নাকি দাম কমার এই ধারা অব্যাহত থাকবে? অভিজ্ঞ মহল মনে করছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের গতিবিধি ও বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের ধাতুর দর।