মতুয়াদের জন্য সবচেয়ে বড় ধামাকা! ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই নাগরিকত্ব পাচ্ছেন আড়াই লাখ আবেদনকারী, মতুয়া গড়ে ঐতিহাসিক ঘোষণা

মতুয়াদের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্ব ও অধিকারের দাবিতে এক বিরাট ও ঐতিহাসিক ঘোষণা এলো ঠাকুরনগরের ‘আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলন’ থেকে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সিএএ (CAA)-এর আওতায় প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।
রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়াদের প্রধান কেন্দ্র ঠাকুরনগরে আয়োজিত এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আড়াই লক্ষ আবেদনের শুনানি দ্রুত করার নির্দেশ
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত মাত্র ২৫ হাজার মানুষ সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। কিন্তু আবেদনকারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে খুব শীঘ্রই শুনানি প্রক্রিয়া কয়েক গুণ দ্রুত করা হবে। লক্ষ রাখা হয়েছে যাতে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই আড়াই লক্ষ যোগ্য আবেদনকারী সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন।
মতুয়া উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকার বিশেষ ঘোষণা
মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি মেগা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, সিএএ-এর মাধ্যমে যাঁরা নাগরিকত্ব লাভ করবেন, সেই প্রকৃত তফসিলি জাতিভুক্ত (SC) ব্যক্তিদের সরকারিভাবে স্থায়ী ‘তফসিলি জাতি’ শংসাপত্র (SC Certificate) প্রদান নিশ্চিত করা হবে।
আগের বিরোধী অবস্থান ও রাজনৈতিক আক্রমণ
মতুয়া গড় থেকে রাজ্যের পূর্বতন রাজনৈতিক অবস্থানকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলা হয়, অন্যান্য সব রাজ্যে সিএএ সঠিকভাবে কার্যকর হলেও এ রাজ্যে রাজনৈতিক স্বার্থে ও বিভাজনের রাজনীতির কারণে এতদিন এর তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছিল। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আগত নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে জানানো হয়, আগামী দিনে এই মতুয়া সমাজের উন্নয়ন ও মর্যাদা রক্ষাই হবে প্রধান লক্ষ্য।
এক নজরে মতুয়া আন্দোলন:
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে হরিচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের ফসল এই মতুয়া সম্প্রদায়, যা অবিভক্ত পূর্ব বাংলার নমশূদ্র মানুষদের একত্রিত করেছিল। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গেও এই সম্প্রদায় তফসিলি জাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত।