রিহ্যাবে যুবকের রহস্যমৃত্যু ঘিরে তুলকালাম! আতঙ্কে ৫০-৬০ জন রোগী হুড়মুড়িয়ে পালালেন কেন্দ্র ছেড়ে

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। শহরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (Rehabilitation Centre) চিকিৎসাধীন এক যুবকের রহস্যজনক পরিস্থিতিতে আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার জেরে রিহ্যাবের অন্দরে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সুযোগ বুঝে কেন্দ্রের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি চলে যান।
🏠 ঠিক কী ঘটেছিল ইন্দোরের রিহ্যাব সেন্টারে?
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ইন্দোরের রাওজি বাজার থানা এলাকায়। নিহত যুবকের নাম সচেন্দ্র লোধি। পরিবারের লোকজন তাঁকে চিকিৎসার জন্য ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করেছিলেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রিহ্যাব সেন্টারে একটি রোগী পরামর্শ ক্লাস (Counseling Class) চলছিল। সেই ক্লাসে উপস্থিত থাকার সময় সচেন্দ্র অতিরিক্ত ক্লান্তির অজুহাত দিয়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে নিজের ঘরে বিশ্রামের জন্য চলে যান। এরপর দীর্ঘক্ষণ তিনি বাইরে না আসায় অন্য রোগীরা তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। ঘরের মধ্যে এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখার পরই অন্যান্য রোগীদের মধ্যে হাহাকার ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রাওজি বাজার থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং পুরো ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
⚠️ পরিবারের গুরুতর অভিযোগ ও রোগীর পলায়ন
সচেন্দ্রর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই তাঁর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার মারাত্মক অভিযোগ তোলেন। মৃত যুবকের শ্যালক অভিযোগ করেন যে, মাত্র এক মাস আগে সচেন্দ্রকে চিকিৎসার জন্য এখানে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু রিহ্যাব সেন্টারের অন্দরে চরম অব্যবস্থাপনা, নিষ্ঠুরতা ও মানসিক চাপের ফলেই তিনি এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। পরিবার এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার পরই রিহ্যাব সেন্টারে থাকা বাকি রোগীরা আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রতিবাদে এবং নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী দলবেঁধে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সরাসরি বাড়ি চলে যান। যার ফলে ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিচালনা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।