দীপাবলির মুখে আকাশছোঁয়া ধস! ১২ মাসের সর্বনিম্ন দামে সোনা-রুপো, আপনার শহরে কত দর?

আসন্ন দীপাবলি ও ধনতেরাসের ঠিক মুখে সোনা ও রুপোর বাজারে বিশাল স্বস্তি! আন্তর্জাতিক বাজারের বড়সড় রদবদলের প্রভাবে এক ধাক্কায় রেকর্ড পতন ঘটল এই দুই মূল্যবান ধাতুর দামে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর প্রায় ৩.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩,৮৮০ ডলারে পৌঁছেছে এবং রুপোর দাম প্রায় ৬.৫ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৪৯ ডলারের নিচে।
গত ১২ মাসের মধ্যে এটিই সোনা ও রুপোর সর্ব সর্বনিম্ন দর। স্বাভাবিকভাবেই উৎসবের মরশুমে সোনা-রুপো কেনার পরিকল্পনা যাদের ছিল, তাঁদের জন্য এই দরপতন এক দারুণ খবর নিয়ে এসেছে।
📉 জানুয়ারি থেকে ৩০% সস্তা সোনা, তলানিতে রুপোও
বাজারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬-এর জানুয়ারিতে সোনা প্রতি আউন্স ৫,৫৯৫ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তার তুলনায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, প্রায় ১১ মাসের মধ্যে এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দর প্রতি আউন্স ৫০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ভারতীয় বাজারের হিসাব অনুযায়ী:
সোনা (১০ গ্রাম): প্রায় ১,৩৮,৪০০ টাকা।
রুপো (১ কেজি): প্রায় ১,৭৮,৯০০ টাকা।
❓ হঠাৎ কেন এত সস্তা সোনা ও রুপো?
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে দরপতনের নেপথ্যে প্রধানত কয়েকটি কারণ কাজ করছে:
মার্কিন টেক সেক্টরে ধস: প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির ফলে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের অন্যান্য বাজার থেকেও সম্পদ সংকুচিত করছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সোনা-রুপোর ওপর।
ক্রুড অয়েলের প্রভাব ও উচ্চ সুদের হার: অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদের হার উঁচু রাখতে পারে। আর সুদের হার বেশি থাকলে সোনার মতো সুদহীন সম্পদে বিনিয়োগের আগ্রহ কিছুটা কমে যায়।
🏙️ ভারতের প্রধান শহরগুলিতে ২২ ক্যারেট সোনার আজকের দর (প্রতি গ্রাম)
দীপাবলির কেনাকাটার আগে দেশের বড় শহরগুলিতে সোনার রেট দেখে নিন একনজরে:
💡 এখন কি সোনা ও রুপো কেনার সঠিক সময়?
বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মতে, উৎসবের মরশুমের ঠিক মুখে এই বড় দরপতন খুচরা ক্রেতা এবং সাধারণ পরিবারগুলির জন্য সোনা-রুপো কেনার এক মোক্ষম সুবর্ণ সুযোগ। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি যাঁরা গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য বর্তমানের দাম যথেষ্ট সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় বাজার দর ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।