১৭ বছর জেল খাটার পর বিলকিস বানো মামলায় বড় মোড়! সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেল জোশী ও মোধিয়া

২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার সময় ঘটা বহুল আলোচিত বিলকিস বানো গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি—বিপিনচাঁদ কানাইয়ালাল জোশী এবং প্রদীপ রমনলাল মোধিয়ার অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি বরালের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই জামিনের আদেশ নির্দেশ জারি করেছে।
🏛️ কেন জামিন দিল শীর্ষ আদালত?
সুপ্রিম কোর্টের আপলোড করা আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকায় জামিন মঞ্জুরের প্রধান কারণ হিসেবে আসামিদের দীর্ঘ কারাবাসের সময়কালকে তুলে ধরা হয়েছে:
১৭ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড: আবেদনকারীরা ইতিমধ্যেই ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে জেল খাটছেন।
শারীরিক অবস্থা ও আইনি দিক: আবেদনকারী দুইজনের মধ্যে এক আসামি (বিপিনচাঁদ জোশী) শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন। এ ছাড়াও, তাঁদের আবেদনের আইনি ও তথ্যগত কিছু সংবেদনশীল দিক রয়েছে, যা গভীরভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
এফআইআর-এর তথ্য: আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয় যে, আসামিদের মধ্যে একজনের নাম প্রাথমিক এফআইআর (FIR)-এ ছিল না, ঘটনা ঘটার প্রায় তিন বছর পর তাঁকে মামলায় যুক্ত করা হয়েছিল।
বম্বে হাইকোর্ট ২০১৭ সালে তাঁদের সাজা বহাল রাখার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন জানান এই দুই আসামির আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা ও সনিয়া মাথুর। বিপরীত পক্ষে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অপরাধের ভয়াবহতা ও গণধর্ষণের মতো মারাত্মক অভিযোগের কথা তুলে ধরে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত ট্রায়াল কোর্টের নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে তাঁদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
📜 পেছনের কথা ও পূর্ববর্তী আইনি প্রেক্ষাপট
২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার সময় ২১ বছর বয়সি এবং ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানোকে নির্মমভাবে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, বিলকিসের ৩ বছরের নিষ্পাপ কন্যাকে আছড়ে হত্যা করা সহ তাঁর পরিবারের সাত সদস্যকে নৃশংসভাবে খুন করে দুষ্কৃতীরা।
২০০৮ সালের রায়: সিবিআই-এর বিশেষ আদালত এই মামলায় ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
২০২২-এর আগাম মুক্তি ও বিতর্ক: ২০২২ সালের অগাস্ট মাসে গুজরাত সরকার সাজা মকুবের বিশেষ নীতি অনুযায়ী এই ১১ জনকেই জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
২০২৪-এ সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট গুজরাত সরকারের দেওয়া সেই আগাম মুক্তির সিদ্ধান্তকে একপ্রকার খারিজ করে দেয়। আদালত স্পষ্ট জানায় যে, যেহেতু মামলার বিচার মুম্বইয়ে হয়েছিল, তাই সাজা মকুবের এক্তিয়ার কেবল মহারাষ্ট্র সরকারেরই ছিল।
তবে সেই আদেশের পর আসামিরা পুনরায় আত্মসমর্পণের পর এবার দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাবাস এবং আইনি পর্যালোচনার ভিত্তিতে জোশী ও মোধিয়ার জামিন মঞ্জুর করল শীর্ষ আদালত।