সাইবার প্রতারণায় খোয়া যাবে না ১ টাকাও! ব্যাঙ্কগুলির গাফিলতি পেলেই কড়া অ্যাকশনে দেশের শীর্ষ আদালত!

দেশজুড়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এবং ভুয়া সাইবার তদন্তের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের রক্তজল করা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চক্র ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কখনও পুলিশ, কখনও বা সিবিআই কিংবা ইডি-র ভুয়া আধিকারিক সেজে ফোন করে সাধারণ মানুষকে মানসিক চাপে ফেলে মুহূর্তে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট শূন্য করে দিচ্ছে প্রতারকেরা। এই ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ রুখতে এবং সাধারণ ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)।
একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে— সাইবার প্রতারণার ঘটনার ক্ষেত্রে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নজরদারি বা তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে ভুক্তভোগী গ্রাহককে তাঁর খোয়া যাওয়া পুরো অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য থাকবে সেই ব্যাঙ্ক।
সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধীরা ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদ পেতে বহু মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও কলে আটকে রেখে লক্ষ লক্ষ টাকা অন্য ভুয়া অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করতে বাধ্য করছে। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, জালিয়াতির টাকা যেসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে স্রেফ কয়েক মিনিটের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে, সেগুলি খোলার সময়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের শিথিলতা ও পর্যাপ্ত ‘কেওয়াইসি’ (KYC) যাচাইয়ের অভাব ছিল।
গ্রাহকদের সুরক্ষিত রাখা এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জালিয়াতি রুখতে ব্যাঙ্কগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতেই হবে। নিজেদের নজরদারিতে কোনো ফাঁকফোকর বা অবহেলা থাকলে, তার দায় ব্যাঙ্ক এড়াতে পারবে না এবং গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির সম্পূর্ণ ভরপাই ব্যাঙ্ককেই করতে হবে।
শীর্ষ আদালতের এই ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তী নির্দেশে স্বাভাবিকভাবেই বিরাট স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন দেশের কোটি কোটি ব্যাঙ্ক গ্রাহক।