আইপিএল ২০২৭-এর আগেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে বড় ছাঁটাই! মালিঙ্গা সহ ৩ তারকাকে একযোগে বিদায় করল ফ্র্যাঞ্চাইজি

পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians) নতুন মরশুমের আগে নিজেদের খোলস পুরোপুরি বদলে ফেলার এক মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি মাহেলা জয়বর্ধনেকে সরিয়ে প্রাক্তন তারকা অলরাউন্ডার কায়রন পোলার্ডকে (Kieron Pollard) প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল তারা। এবার হেড কোচের পর নিজেদের সাপোর্ট স্টাফ বিভাগেও চালিকাশক্তি বদল করে ফেলল মুকেশ আম্বানির দল।
বৃহস্পতিবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, দলের সাপোর্ট স্টাফে থাকা তিন গুরুত্বপূর্ণ মুখ— লাসিথ মালিঙ্গা (Lasith Malinga), পারস মামব্রে এবং কার্ল হপকিন্সের সাথে নতুন করে কোনো চুক্তি করা হচ্ছে না। লঙ্কান পেস তারকা মালিঙ্গা এবং ভারতের প্রাক্তন পেসার মামব্রে মুম্বইয়ের সহকারী বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন কার্ল হপকিন্স। ৩ জনকেই একসঙ্গে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
মুম্বই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে মালিঙ্গার সম্পর্ক বহু বছরের। খেলোয়াড় হিসেবে একদা দলের বোলিং আক্রমণের সেরা অস্ত্র ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে যশপ্রীত বুমরার মতো তারকা পেসারের মেন্টর হিসেবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে বোলিং কোচ পদে যোগ দেন মালিঙ্গা। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের মরশুমে দলের সঙ্গে যুক্ত হন মামব্রে ও হপকিন্স। তবে এবার পোলার্ডের অধীনে নতুন সাপোর্ট স্টাফ আনার লক্ষ্যেই এই তিনজনকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছাঁটাইয়ের ঘোষণা করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, “লাসিথ, পারস এবং কার্ল— মুম্বই ইন্ডিয়ান্স পরিবারের প্রতি তাঁদের যে অবদান, তার জন্য আমরা হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাঁদের একাগ্রতা, দলের ক্রিকেটারদের সাথে গড়ে ওঠা সুসম্পর্ক ও স্মৃতিগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজি আজীবন মনে রাখবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২০ সালে আইপিএল জিতে পাঁচবার ট্রফি জেতার অনন্য রেকর্ড গড়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তবে গত ছয় মরশুম ধরে তারা ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী ১৬ই ডিসেম্বর গোয়ায় আয়োজিত হতে চলেছে আইপিএলের মেগা নিলাম, যার আগে ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ধরে রাখা (Retained) ও ছেড়ে দেওয়া (Released) ক্রিকেটারদের তালিকা জমা দিতে হবে। তার ঠিক আগেই কোচেদের এই গণছাঁটাই মুম্বইয়ের আমূল পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।