আইপ্যাক কাণ্ডে বড় মোড়! মমতার বিরুদ্ধে নথি চুরির মামলায় রায় স্থগিত সুপ্রিম কোর্টে, সিব্বলের মন্তব্যে তোলপাড়

হুল চর্চিত আইপ্যাক (I-PAC) কাণ্ডে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফাইল ও নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইডি-র দায়ের করা মামলার শুনানি শেষ হলো সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার সমন্বয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর মামলাটির রায়দান স্থগিত রেখেছে।

ইডি-র মূল অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর কার্যালয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তল্লাশি অভিযান চলাকালীন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়েন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে নেন। এই ঘটনার জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় ইডি।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী তথা বিশিষ্ট আইনজ্ঞ কপিল সিব্বল। সওয়াল চলাকালীন সিব্বল এক তাৎপর্যপূর্ণ যুক্তি পেশ করেন। তিনি জানান, যখন এই ঘটনাটি ঘটেছিল তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং রাজ্য পুলিশ তাঁর অধীনে ছিল। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে এবং তিনি আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে নেই।

কপিল সিব্বল আদালতে অন-রেকর্ড বলেন, বর্তমানে রাজ্যে যে সরকার রয়েছে, তারা চাইলেই এই মামলা সিবিআই-এর হাতে হস্তান্তর করতে পারে। সেক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিন্দুমাত্র কোনো আপত্তি নেই এবং তিনি নিজের বয়ান বা স্টেটমেন্ট রেকর্ড করাতেও প্রস্তুত। সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য সরকার নিজেই যখন সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তখন সুপ্রিম কোর্টকে কেন নির্দেশ জারি করতে বাধ্য করা হচ্ছে?

অন্যদিকে, ইডি-র পক্ষে সওয়ালকারী অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু পাল্টা দাবি করেন, কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ যাতে না ওঠে, সে জন্য শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। উভয় পক্ষের বক্তব্য বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করার পর সুপ্রিম কোর্ট আপাতত তাদের রায় সংরক্ষিত রেখেছে। শীর্ষ আদালত এখন কী রায় দেয়, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।