ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজারে অ্যালকোহল? ত্বকে মাখছেন নাকি ক্ষতি করছেন! আসল বিজ্ঞানটা চমকে দেবে

রূপচর্চার জগতে প্রতিদিন নানা ধরনের ক্রিম বা ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করেন কোটি কোটি মানুষ। তবে কখনো কি খেয়াল করেছেন আপনার প্রিয় স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টের উপাদানের তালিকায় লেখা থাকে ‘অ্যালকোহল’? বিষয়টি দেখে চমকে ওঠাই স্বাভাবিক! অনেকেই মনে করেন অ্যালকোহল ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আধুনিক ত্বকের পরিচর্যা বা স্কিন কেয়ার সামগ্রীতে কেন অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয় এবং এর পেছনে আসল বিজ্ঞানটি কী?

অ্যালকোহল কেন মেশানো হয়? চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

বিখ্যাত সৌন্দর্য ব্র্যান্ড ‘স্কিনকিউ’ (SkinQ)-এর চিফ ফর্মুলেটর ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডঃ চিত্রা আনন্দ জানান, স্কিন কেয়ার ক্রিমে অ্যালকোহল ব্যবহারের পেছনে বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।

  • উপাদান দ্রবীভূত করতে: ক্রিমের ভেতরে থাকা সক্রিয় উপাদানগুলোকে (Active Ingredients) সঠিকভাবে দ্রবীভূত করতে অ্যালকোহল সাহায্য করে।

  • সহজে ছড়িয়ে পড়া ও দ্রুত শুকানো: এটি ক্রিমের টেক্সচার বা গঠনকে হাল্কা করে, যার ফলে ত্বক সহজে ক্রিমটি শুষে নেয় এবং ব্যবহারের পরপরই এটি ত্বককে চটচটে না করে দ্রুত শুকিয়ে যেতে সাহায্য করে।

  • সংরক্ষণ ও স্থায়িত্ব (Preservation): নির্দিষ্ট কিছু অ্যালকোহল অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষক হিসেবে কাজ করে, যা ক্রিমে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে দেয় না এবং দীর্ঘদিন প্রোডাক্টটি ভালো রাখে।

সব অ্যালকোহল কি ক্ষতিকর?

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের সামগ্রিক গঠন এবং অ্যালকোহলের ব্যবহারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে এর কার্যকারিতা। বাজারের সব অ্যালকোহলই ত্বককে শুষ্ক বা ক্ষতি করে না। স্কিন কেয়ার পণ্যে প্রধানত দুই ধরণের অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়— হাল্কা অ্যালকোহল (যেমন এথানল বা ডিনেচার্ড অ্যালকোহল) এবং ফ্যাটি অ্যালকোহল (যেমন সেটিরাইল বা সেটিল অ্যালকোহল)। ফ্যাটি অ্যালকোহল আসলে ত্বককে ময়শ্চারাইজ ও নরম রাখতে সাহায্য করে।

তাই আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক উপাদান বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। অ্যালকোহলযুক্ত ক্রিম মানেই যে তা ত্বকের শত্রু, সেই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে বিজ্ঞানের এই সত্য জানা অত্যন্ত জরুরি।