আজম খানের সাম্রাজ্যে ইডির সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! বাজেয়াপ্ত ১,১৭০ কোটির জওহর বিশ্ববিদ্যালয়

সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রবীণ নেতা তথা উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী মোহাম্মদ আজম খানের অশুভ দিন যেন শেষই হচ্ছে না। অর্থ পাচার (Money Laundering) সংক্রান্ত একটি বড় মামলায় এবার সমাজবাদী পার্টির এই দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। রামপুরে অবস্থিত আজম খান পরিচালিত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ও ভবন সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত (Attach) করেছে সংস্থাটি। বাজেয়াপ্ত করা এই সুবিশাল সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১,১৭০ কোটি টাকা।

সংবাদের ৩টি প্রধান বিষয়:

  • কঠোর পদক্ষেপ: পিএমএলএ (PMLA) আইনের অধীনে ইডি লখনউ আঞ্চলিক কার্যালয় জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২৬.৪৬ কোটি টাকার বইমূল্যের (Book Value) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে, যার বর্তমান বাজার দর ১,১৭০ কোটি টাকা।

  • তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ: বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল তছরুপ এবং আর্থিক অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে আজম খানের বিরুদ্ধে।

  • একাধিক এফআইআর: আজম খান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে রামপুরে ২৫টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যেগুলিকে একত্রিত করে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।

কীভাবে জালে জড়ালেন আজম খান?

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র লখনউ জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর ট্রাস্ট’-এর অধীনে পরিচালিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA), ২০০২-এর আওতায় ক্রোক করা হয়েছে।

রামপুরের সিংহানখেড়া গ্রামের জওহর নগরে অবস্থিত এই সুবিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি মূলত ‘মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর ট্রাস্ট’-এর মালিকানাধীন। এই ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সর্বেসর্বা হলেন আজম খান নিজে। পাশাপাশি তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক আচার্য (Chancellor) পদেও রয়েছেন।

তদন্তের গতিপথ ও পুরোনো মামলা

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর ইডি কারাবন্দী আজম খান এবং তার ট্রাস্টের বিরুদ্ধে একটি নতুন এফআইআর দায়ের করেছিল। অভিযোগ ছিল, সমাজবাদী পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালীন উত্তর প্রদেশ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী হিসেবে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার নামে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন তিনি।

আজম খান ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে এর আগেই স্থানীয় থানায় ২৫টিরও বেশি পৃথক এফআইআর নথিভুক্ত ছিল। ইডি সেই সমস্ত এফআইআর-কে একত্র করে মানি লন্ডারিং আইনের অধীনে তাদের জাল আরও শক্ত করে তোলে, যার জেরে অবশেষে বুধবার এই বিশাল অঙ্কের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘোষণা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।