গবাদি পশু চরানো থেকে সোজা জেলা কালেক্টর! অভাবের সঙ্গে লড়াই করে আইএএস হওয়ার অবিশ্বাস্য গল্প

তামিলনাড়ুর ছোট্ট এক শহর থেকে মহারাষ্ট্রের প্রশাসনিক মসনদ সামলানো—সি বনমতীর জীবনযাত্রা যেন এক অদম্য লড়াইয়ের জীবন্ত দলিল। ছোটবেলায় স্কুল থেকে ফিরে কখনও গবাদি পশু চরানো, আবার কখনও সংসারের কাজে হাত লাগাতে হত তাঁকে। ট্যাক্সিচালক বাবার সীমিত আয়ে কোনোমতে চলত সংসার। অভাব-অনটনের সেই বেড়াজাল কাটিয়ে দেশের অন্যতম কঠিন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইএএস অফিসার হওয়া মুখের কথা ছিল না। তবে এই সাফল্য কোনো রাতারাতি পাওয়া সৌভাগ্য নয়, বরং দীর্ঘ প্রস্তুতি, বারবার ব্যর্থতা এবং নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার এক রূপকথার মতো গল্প।

ইরোডের সত্যমঙ্গলমে বেড়ে ওঠা বনমতীর শিক্ষাজীবন শুরু থেকেই ছিল কণ্টকাকীর্ণ। উচ্চশিক্ষার আগে বিয়ে দেওয়ার সামাজিক চাপ এলেও নিজের পড়াশোনা নিয়ে আপস করেননি তিনি। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু আর্থিক অনটন কাটাতে তিনি প্রথমে ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। একদিকে দীর্ঘ ব্যাঙ্কের চাকরি, অন্যদিকে কঠিন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি—দুটি দিক একসঙ্গে সামলানো সহজ ছিল না। তা সত্ত্বেও নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে আসেননি তিনি।

প্রথম প্রচেষ্টাতেই ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেও চূড়ান্ত তালিকায় নাম না আসায় ভেঙে পড়েননি বনমতী। পরবর্তীতে প্রিলিমিনারি ও মেনস পরীক্ষায় একাধিকবার ব্যর্থতার মুখে পড়লেও প্রতিটি হোঁচট থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। ইন্টারভিউয়ের ঠিক আগে বাবার গুরুতর অসুস্থতার মতো মানসিক চাপ সামলে তিনি ২০১৫ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ১৫২তম স্থান অর্জন করেন। মহারাষ্ট্র ক্যাডারের এই আইএএস অফিসারের জীবন প্রমাণ করে, ভাগ্যের পরিহাস যতই কঠিন হোক না কেন, স্বপ্ন দেখার জেদ আর ধারাবাহিক পরিশ্রম থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।