চাকরি দেয়নি, শুধু করেছে গুন্ডামি! উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ভোট নিয়ে ফৈজাবাদের সাংসদের বিস্ফোরক মন্তব্য

শুক্রবার উত্তর প্রদেশ এবং বিহারের বিধান পরিষদ বা এমএলসি (MLC) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দুই রাজ্যের একাধিক ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, হাতাহাতি, ভাঙচুর এবং বুথ দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন চলাকালীন ফতেহপুর, মুজাফফরনগর, গোরখপুর, আগ্রা, বারাণসী এবং কৌশাম্বী সহ বিভিন্ন জেলায় শাসক ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ ও দোষারোপের খেলা শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদব সরাসরি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে ফৈজাবাদের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদ শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার এবং এর নেতাদের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের সমস্ত বিশ্বাস ও আস্থা সম্পূর্ণভাবে উঠে গেছে। বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ টেনে অবধেশ প্রসাদ বলেন, দেশের যুবসমাজ উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও আজ বেকার বসে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতি বছর দুই কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা রক্ষা করা তো দূরে থাক, উল্টো বহু মানুষকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জনগণের ক্ষোভের ভয়েই শাসকদল ভোট লুঠের পথ বেছে নিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এমএলসি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে অবধেশ প্রসাদ আরও বলেন, গতকাল অনুষ্ঠিত বিধান পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই বুথ দখল, গুন্ডামি এবং সমাজবিরোধীদের দিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে হাজারো বাধা ও দমনপীড়নের মধ্যেও ফৈজাবাদ-গোরখপুর আসনে তাঁদের দলের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, সাধারণ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনে সর্বসাধারণ ভোট দেন না, বরং নির্ধারিত বিশেষ নির্বাচনী এলাকার ভোটাররাই ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটদান করেন। ভোটের এই প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে তিরিশটিরও বেশি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এক্স হ্যান্ডলে একাধিক ভিডিও শেয়ার করে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে বুথ দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন এসপি প্রধান অখিলেশ যাদবও।