পাঞ্জাবে দিনদুপুরে ফিল্মি কায়দায় বাইক থেকে নামিয়ে যুবককে অপহরণ! পরে মিলল রক্তাক্ত দেহ, নেপথ্যে কি পুরনো শত্রুতা?

পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলায় দিনদুপুরে এক লোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে মোটরসাইকেলে করে নিজের গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন ২৭ বছর বয়সি এক যুবক। ঠিক সেই সময়ই একটি কালো রঙের মহিন্দ্র স্কর্পিও গাড়ি সজোরে তাঁর বাইকে ধাক্কা মেরে পথরোধ করে। গাড়ি থেকে নেমে আসা একদল দুর্বৃত্ত ওই যুবকের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে মারধর করে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অপহরণ করে চম্পট দেয়। এই পুরো বর্বরোচিত ঘটনাটি একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে। পরে পার্শ্ববর্তী সঙ্গরুর জেলা থেকে ওই যুবকের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ব্যক্তিগত কোনো পুরনো শত্রুতার জেরেই এই ঠান্ডা মাথার খুন করা হয়েছে।

নিহত যুবকের নাম নবাব খান (২৭), যিনি পাতিয়ালা জেলার ডকালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে তিনি যখন মোটরসাইকেলে চড়ে যাচ্ছিলেন, তখন পাতিয়ালা-संगरूर রোডের একটি পেট্রোল পাম্পের নিকট বিপরীত দিক বা ভুল লেন থেকে আসা কালো রঙের স্কর্পিও গাড়িটি সজোরে তাঁর বাইকে ধাক্কা মারে। ধাক্কা লাগার পর নবাব খান রাস্তায় ছিটকে থামতে বাধ্য হন। মুহূর্তের মধ্যে স্কর্পিও থেকে বেশ কয়েকজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী নেমে আসে এবং তাঁকে কোনো রকম আত্মরক্ষার সুযোগ না দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে জোর করে গাড়িতে তুলে নেয়। চোখের পলকে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই অপহরণের ঘটনায় স্থানীয় স্তরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, যা দেখে শিহরিত হয়ে উঠছেন সাধারণ মানুষ। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কীভাবে স্কর্পিও গাড়িটি বাইকটিকে টার্গেট করে ধাক্কা মারছে এবং তারপর অপরাধীরা তাকে বলপূর্বক গাড়িতে তুলছে। শুধু তাই নয়, ঘটনার কিছু সময় পর এক পথচারী নিজের মোবাইল ক্যামেরায় আরেকটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যেখানে দেখা যায় চলন্ত গাড়ির জানলা দিয়ে শরীরের অর্ধেক অংশ বাইরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সঙ্গরুরের দিকে ছুটে চলেছে। এই ভিডিও থেকেই অপহরণের তীব্রতা ও নৃশংসতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুলিশ এই সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে।

অপহরণের খবর পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। অবশেষে সঙ্গরুর জেলার ভবানীনগর থানা এলাকার কালা ঝাড় নামক স্থান থেকে নবাব খানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে যে, যুবকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর থেকেই স্পষ্ট যে, অপহরণের পর তাঁকে অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যে দু’জন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করেছে এবং বাকি অভিযুক্তদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। পাসিয়ানা থানায় এই মর্মে একটি হত্যা ও অপহরণের মামলা রুজু করা হয়েছে। নিহত নবাব খান তাঁর স্ত্রী ও এক বছরের শিশুকন্যাকে এই পৃথিবীতে একা ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর এই আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে ক্ষোভ। পুলিশ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই সমস্ত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।