উত্তরাখণ্ডে মদ্যপ বলে অপমান! ডালের মেহেন্দির কান্না দেখে ভেঙে পড়লেন ভাই মিকা সিং

উত্তরাখণ্ডে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। এবার সেই ঘটনায় জল ঢালতে আসরে নামলেন জনপ্রিয় গায়ক মিকা সিং। তাঁর দাবি, প্রখ্যাত পাঞ্জাবি গায়ক ডালের মেহেন্দির সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত অপমানজনক। এমনকি, পুরো পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা করে মিকা দাবি করেছেন যে, খোদ উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে ডালের মেহেন্দির কাছে দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজনৈতিক এবং শিল্পমহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের তেহরিতে নবরাত্রি উপলক্ষে একটি জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন ডালের মেহেন্দি। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান মঞ্চেই তাঁকে ঘিরে হঠাৎ এক বিশাল বিতর্ক দানা বাঁধে। উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল সরাসরি ডালেরের পরিবেশনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগ করেন যে গায়ক নাকি মদ্যপ অবস্থায় মঞ্চে উঠেছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। একুশ শতকের এই যুগে একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকে নিয়ে এমন বেনজির মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁর ভাই মিকা সিং সহ দেশের বহু বিশিষ্ট শিল্পীরা।

মিকা সিং সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁর দাদা ডালের মেহেন্দি জীবনে কখনও মদ্যপান করেন না। সেদিন তিনি শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও মঞ্চে উঠেছিলেন। একজন বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় শিল্পীকে প্রকাশ্যে এভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন মিকা। তিনি সাফ জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছ থেকে এই অপমানের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

এদিকে, এই গোটা বিতর্কের জেরে ডালের মেহেন্দি মানসিকভাবে কতটা ভেঙে পড়েছিলেন, সেই চাঞ্চল্যকর তথ্যও প্রকাশ্যে এনেছেন মিকা। ২৩ অক্টোবর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিকা জানান, ঘটনার পরের দিন দাদার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ডালের হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন। দাদাকে অতীতে কখনো এমন অসহায় অবস্থায় দেখেননি বলে জানান মিকা। তিনি বলেন, ডালের অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ এবং তিনি সবসময় সকলের সম্মান রক্ষা করে চলেন।

মিকার দাবি অনুযায়ী, এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি তাঁকে ফোন করে পুরো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং অত্যন্ত বিনম্রভাবে দুঃখপ্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, উত্তরাখণ্ড সরকার এবং রাজ্যবাসী শিল্পীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে জানে। যা ঘটেছে তা মোটেও কাম্য ছিল না। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ফোন ও আশ্বাসের পরেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সরাসরি ক্ষমা চাওয়ার দাবি থেকে একচুলও নড়েননি মিকা। সব মিলিয়ে, এই হাই-প্রোফাইল বিতর্ক এখন কোন মোড় নেয়, সেটাই দেখার।