“উৎসবের মাঝেই দেশজুড়ে বিদ্যুৎ স্বস্তি! তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে রেকর্ড গতিতে ছুটছে কয়লার রেক”

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কয়লার জোগান স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করল ভারতীয় রেল। ২০২৬ সালের চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১৮ দিন পর্যন্ত প্রাপ্ত সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, কয়লা পরিবহণের ক্ষেত্রে সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে ভারতীয় রেলওয়ে। বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে কয়লা পরিবহণের সামগ্রিক পরিমাণ একলাফে ২২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, গত বছরের অক্টোবরের পরিসংখ্যানকে পিছনে ফেলে এবার প্রতিদিন গড়ে অতিরিক্ত ৮৭টি করে কয়লা বোঝাই রেক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়েছে। মূলত দেশের প্রতিটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার পর্যাপ্ত জোগান ও মজুত নিশ্চিত করতেই ভারতীয় রেল এই মেগা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ভারতীয় রেলের তরফে প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৩০টি কয়লাবোঝাই রেক সরাসরি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে পাঠানো হয়েছে। গত অর্থবর্ষের একই সময়ের পরিসংখ্যানের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৭.১ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেও কয়লা পরিবহণের এই গ্রাফ ছিল যথেষ্ট ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় ওই একই সময়ে প্রতিদিন কয়লাবোঝাই রেক পাঠানোর পরিমাণ ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বর্তমান সময়ে শিল্প উৎপাদনের দ্রুত বৃদ্ধি, দেশজুড়ে বিদ্যুতের রেকর্ড চাহিদা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত কয়লা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই চ্যালেঞ্জকেই সফলভাবে মোকাবিলা করছে ভারতীয় রেল।
উল্লেখ্য, কয়লা পরিবহণ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করে তুলতে দেশের কয়লা মন্ত্রকের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে দিনরাত কাজ করে চলেছে ভারতীয় রেল। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত পূরণ করতে এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার কোনো ঘাটতি যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে এই ত্রিস্তরীয় সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামো বিশেষজ্ঞরা।