চাকরি ছাড়ার পরেও কি পিএফ অ্যাকাউন্টে সুদ মিলবে? ইপিএফও-র নতুন নিয়মে জানুন চমকে দেওয়া তথ্য!

দীর্ঘ কর্মজীবন জুড়ে সংস্থায় কাজ করার পাশাপাশি প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফও (EPFO)-তে তিল তিল করে অর্থ সঞ্চয় করেন চাকুরিজীবীরা। চাকরির মেয়াদকালে তো বটেই, অবসরের পরেও এই জমানো টাকার সুদের হারের দিকে নজর থাকে সকলের। তবে চাকরি ছাড়ার বা অবসরের ঠিক কত দিন পর্যন্ত সরকার এই পিএফ অ্যাকাউন্টে সুদ দিয়ে থাকে, তা নিয়ে অনেকের মনেই ধন্দ থাকে। সম্প্রতি এই বিষয়ে সমস্ত নিয়ম পরিষ্কার করে দিল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (যেটি আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল)-এ একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে পিএফ অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে ইপিএফও। সেখানে জানানো হয়েছে, ৫৮ বছর বয়সে অবসর গ্রহণকারী কর্মচারীরা নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত তাঁদের ইপিএফ জমার ওপর সুদের সুবিধা পেতে পারেন।
অবসরের পরেও কি সুদ পাওয়া যায়? ইপিএফও-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী যদি ৫৮ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন, তবে তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকার ওপর আরও তিন বছর পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়। এর অর্থ হল, কর্মীর বয়স ৬১ বছর হওয়া পর্যন্ত ওই অ্যাকাউন্টে সুদ জমা হতে থাকে। ফলে, রিটায়ারমেন্টের ঠিক পরপরই তড়িঘড়ি সমস্ত টাকা তুলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। চাকুরিজীবীরা তাঁদের আর্থিক প্রয়োজন ও সুবিধা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টাকা অ্যাকাউন্টে রেখে দিতে পারেন এবং সেই জমানো টাকার ওপর সুদ পেতে থাকেন।
অবসরের তিন বছর পর কী হয়? তবে এই সুবিধার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। ইপিএফও জানিয়েছে, অবসর গ্রহণের তিন বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলে পিএফ অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাক্টিভ হিসেবে গণ্য হয়। অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার পর থেকে সেই তহবিলের ওপর আর কোনো সুদ দেওয়া হয় না।
তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসর গ্রহণের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য পিএফ অ্যাকাউন্টে টাকা ফেলে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কর্মচারীদের উচিত নিজেদের অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাসের ওপর সর্বদা নজর রাখা এবং নিয়মের কথা মাথায় রেখে সঠিক সময়ে টাকা তোলার পরিকল্পনা করা।
জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে আর্থিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে পিএফ-এর সঞ্চয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই টাকা জমা হওয়ার মেয়াদ এবং কোন সময়ে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুললে সর্বাধিক লাভ পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে আগে থেকেই ওয়াকিবহাল থাকা অত্যন্ত জরুরি।