“কাটবে বহু বিধায়কের পাতা!”-ভোটের মুখে যোগীরাজ্যে বড় রদবদলের মুখে বিজেপি?

জাতীয় রাজনীতিতে অতি প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে—”দিল্লির মসনদের রাস্তা উত্তরপ্রদেশ হয়েই যায়।” অর্থাৎ, যে দল উত্তরপ্রদেশ দখল করবে, দেশের রাশও মূলত তাদের হাতেই থাকবে। সেই সমীকরণ মাথায় রেখেই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে, আগামী ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোমর বাঁধছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না মেলার পর এবার আর কোনও ফাঁকফোকর রাখতে নারাজ পদ্মশিবির।

ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাই, বর্তমান বিধায়কদের কাজের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং নির্বাচনী এলাকার বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জোরকদমে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রথম দফায় রাজ্যের প্রায় ১২৫টি বিধানসভা আসনে সমীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন।

পারফর্ম্যান্সই শেষ কথা, টিকিটে ‘না’ হতে পারেন অনেকেই

সমীক্ষার যা প্রাথমিক রিপোর্ট, তাতে শাসকদলের বেশ কয়েকজন বর্তমান বিধায়কের টিকিট কেটে যাওয়া বা পুনর্বিবেচনা করার জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিজেপি সূত্রে খবর, শুধুমাত্র পুরনো নেতা বা দীর্ঘদিনের অনুগত হলেই এবার আর টিকিট মিলবে না। প্রার্থী নির্বাচনের একমাত্র মাপকাঠি—’জয়ের সম্ভাবনা’ (Winability)।

  • কাজের মূল্যায়ন: এলাকায় বিধায়কের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কেমন, স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ কী এবং কোনো সরকার-বিরোধী হাওয়া (Anti-incumbency) রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • তৃণমূলের মতামত: বুথ স্তর, শক্তিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতাদের সরাসরি মতামত নেওয়া হচ্ছে।

  • বিকল্প প্রার্থী: যে সমস্ত আসনে বর্তমান বিধায়কদের নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বা অসন্তোষ ধরা পড়ছে, সেখানে নতুন ও জনপ্রিয় মুখকে সামনে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে এই সমীক্ষা এবং প্রার্থী বদল নিয়ে এখনই দলের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা করা হয়নি।

জেলা পরিদর্শনে যোগী, সলতে পাকাচ্ছেন তাওড়ে

নির্বাচনী প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখছেন না মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। নিয়মিত বিভিন্ন জেলা সফর করে সরকারি কাজকর্ম ও সংগঠনের তদারকি করছেন তিনি। অন্যদিকে, দলের রাজ্য ইন-চার্জ বিনোদ তাওড়ে প্রতিটি জেলায় ঘুরে ঘুরে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা তৈরি করছেন। বিশেষ করে ২০২৪-এর নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়া পূর্বাঞ্চল ও অবধ অঞ্চলের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

অক্টোবরেই মেগা সফর: মোদী, শাহ ও নবীন একমঞ্চে

সংগঠনকে পুরোপুরি চাঙ্গা করতে অক্টোবর মাসের শেষেই উত্তরপ্রদেশে নামছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

  • ২৫ অক্টোবর: বারাণসী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে একটি বর্ণাঢ্য এয়ার শো-তে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

  • ২৭ অক্টোবর: আজমগড়ে ওম প্রকাশ রাজভরের সঙ্গে এক যৌথ জনসভায় উপস্থিত থাকবেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।

  • ৩০ ও ৩১ অক্টোবর: লখনউয়ে আয়োজিত হতে চলেছে বিজেপির হাই-ভোলেটেজ রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক। উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনসহ রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক শীর্ষ মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়ক।

নভেম্বর থেকে বুথ দখলের মেগা প্ল্যান

নভেম্বর মাস থেকেই ‘বুথ লেভেল’ সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে পদ্মশিবির। বুথ সভাপতি ও শক্তিকেন্দ্রের সমন্বয়কারীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সরাসরি সাধারণ মানুষের মনোভাব বুঝে নির্বাচনী চাল তৈরি করা যায়। স্পষ্টতই, দিল্লির মসনদ ধরে রাখতে উত্তরপ্রদেশের মাটিতে এখন থেকেই অল-আউট ঝাঁপাতে তৈরি বিজেপি।