“বাংলা এবার পুরোপুরি মাওবাদী-মুক্ত!”-AK-47 সহ পুলিশের কাছে অস্ত্র সমর্পণ দুই কুখ্যাত নেতার

পুজো এবং উৎসবের মরশুমের মাঝেই রাজ্যবাসীর জন্য এল এক বিরাট স্বস্তির খবর। পশ্চিমবঙ্গকে পাকাপাকিভাবে ‘মাওবাদী-মুক্ত’ (Maoist-Free) বলে ঘোষণা করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে জঙ্গলমহলের দুই সক্রিয় ও মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল এবং একটি অ্যাসল্ট রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ কার্তুজ।

মাথার দাম ছিল লক্ষাধিক টাকা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী দুই মাওবাদীর নাম মঙ্গল ও মালতী। দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তাঁরা। এই দুই সদস্যের মাথার দাম যথাক্রমে ৫ লক্ষ টাকা এবং ২ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। দুজনেই মূলত ঝাড়খণ্ড থেকে এসে ঝাড়গ্রাম এবং সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় নিজেদের ঘাঁটি গেড়েছিলেন। তবে সমস্ত হিংসার পথ ছেড়ে এবার মূলস্রোতে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেই তাঁরা পুলিশের কাছে অস্ত্র তুলে দেন।

কাদের নির্দেশে চলত এই জঙ্গলমহলের ত্রাস?

পুলিশের প্রাথমিক জেরায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সারেঙ্গা জঙ্গলে কুখ্যাত মাওবাদী নেতা আকাশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল মঙ্গল ও মালতীর। এমনকি মঙ্গল একসময়ে শীর্ষ মাওবাদী নেতা কিষেণজির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের ওঠবস ছিল। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকেই তাঁরা এলাকা ছেড়ে সরে আসেন এবং সংগঠনের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন। অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ বেছে নেন এই দুই মাওবাদী।

নকশাল দমনে বড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশ

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০১২ সাল থেকে রাজ্যে মোট ১৩ জন মাওবাদী পুলিশের ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষে ছিলেন। বিগত বছরগুলিতে তাদের মধ্যে অনেকেই পুলিশের এনকাউন্টারে খতম হয়েছেন, কেউ বা গ্রেফতার হয়েছেন, আবার অনেকে মূলস্রোতে ফিরে এসেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে মঙ্গল ও মালতীর মতো দাপুটে ক্যাডারদের আত্মসমর্পণ মাওবাদী দমনে রাজ্য পুলিশের মুকুটে আরও একটি বড় সাফল্যের ফলক যোগ করল। মঙ্গলের কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল এবং মালতীর কাছ থেকে একটি আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।