নির্বাচন কমিশনের অন্তরেই বিস্ফোরক গৃহযুদ্ধ! ২ কমিশনারের লিখিত অভিযোগ সত্ত্বেও চেপে রাখা হলো নথিপত্র? ফাঁসে তোলপাড়!

দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক সংস্থা নির্বাচন কমিশনের (ECI) অন্দরে চরম মতবিরোধ ও নজিরবিহীন টানাপোড়েনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিকের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি দেশের ক্যাবিনেট সচিবালয়ে অভিযোগ জানিয়েও মিলল না কোনো প্রতিকার! দুই নির্বাচন কমিশনারের পাঠানো ওই গুরুতর লিখিত অভিযোগকে নিছকই ‘ব্যক্তিগত নালিশ’ তকমা দিয়ে সম্পূর্ণ ফাইলবন্দি করে রেখে দেওয়া হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন বা RTI-এর জবাবে প্রাপ্ত এক গোপন নথিতে এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস হতেই জাতীয় রাজনীতিতে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত কমোডোর লোকেশ কে বাত্রার দাখিল করা RTI-এর জবাবে দেখা গিয়েছে, গত ২৯ জুলাই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী দেশের ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথনকে পৃথক দুটি চিঠি পাঠান। তাঁদের অভিযোগের মূল নিশানা ছিলেন ডিরেক্টরেট ও ক্যাবিনেটের নিয়োগ কমিটি কর্তৃক নিযুক্ত সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার মণীশ গর্গ (আইএএস)। অভিযোগ, কমিশনারদের সুস্পষ্ট মৌখিক ও লিখিত নির্দেশ উপেক্ষা করে এবং নির্বাচন কমিশনের কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই মণীশ গর্গ নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমমর্যাদার ও সিনিয়র আধিকারিকদের দায়িত্ব ও কাজের পুনর্বণ্টন সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন।

কমিশনার দ্বয়ের মতে, মণীশ গর্গের এই একতরফা পদক্ষেপ ‘চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনারস অ্যাক্ট, ২০২৩’-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, এর ফলে ভোটার তালিকায় নাম যোগ, বাদ দেওয়া কিংবা তথ্য আপডেটের চরম সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাগুলি রাজ্য স্তরের আধিকারিকদের হাত থেকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে কুক্ষিগত করার এক ভয়ঙ্কর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

তবে সবথেকে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে ক্যাবিনেট সচিবালয়ের জবাবে। ৩ আগস্ট পাওয়া ওই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি ক্যাবিনেট নোটে প্রথমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (CEC) মতামত চাওয়ার কথা বলা হলেও, পরদিনই অবস্থান বদলে ফেলা হয়। অন্য একটি নোটে সাফ জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের সম্পূর্ণ বা সামগ্রিক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়া কেবল দু’জন কমিশনারের পাঠানো চিঠি সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত বিষয়’। এই অবস্থায় কোনো পদক্ষেপ করা হলে তা সরাসরি এই স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের শামিল হতে পারে। ফলে বিষয়টি কার্যত ধামাচাপা পড়ে যায়।

যদিও বিতর্কের মুখে গত ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে দাবি করে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের জারি করা কাজের পুনর্বণ্টনের আদেশটি কখনোই কার্যকর হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সর্বোচ্চ স্তরে এমন বেনজির নালিশ ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের নথি জনসমক্ষে চলে আসায় প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছে চরম তোলপাড়।