বন্ধ ছিল জরুরি গেট, পর্যাপ্ত আলোর অভাব! পুজো মণ্ডপের কোন ত্রুটিগুলি সামনে আনল তদন্তকারী দল?

পুজো মণ্ডপে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনার পর সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করল তদন্তকারী দল। প্রতিমা নিরঞ্জন করা সম্ভব হলেও, তদন্তের স্বার্থে পুজো প্যান্ডেলটি হুবহু বর্তমান অবস্থাতেই অক্ষত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্যান্ডেল ক্ষতিগ্রস্ত না করে প্রতিমা বাইরে বের করা সম্ভব না হলে আপাতত বিসর্জন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে হবে।

তদন্তে উঠে এল একাধিক পরিকাঠামোগত ত্রুটি
ঘটনার পর প্রাথমিক পরিদর্শনের জেরে মণ্ডপের বেশ কিছু গুরুতর পরিকাঠামোগত ত্রুটি সামনে এসেছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তদন্তকারীরা জানান, মণ্ডপ চত্বরে পর্যাপ্ত আলোর তীব্র অভাব ছিল। পাশাপাশি, মূল রাস্তা এবং মণ্ডপের ভেতরে যাতায়াতের পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় অতিরিক্ত জনসমাগম হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি থাকে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মণ্ডপে একটি জরুরি নির্গমন পথ (Emergency Exit) থাকা সত্ত্বেও ঠিক দুর্ঘটনার সময় সেটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়া, পুজোর সময় মাইকে করা কোনো বিশেষ ঘোষণার জেরে এই বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা সৃষ্টি হয়েছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের ভূমিকা ও কোষাধ্যক্ষ গ্রেফতার
পুলিশের প্রাথমিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, এত বড় ঘটনা কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের চোখ এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, যে বিশেষ ঘোষণার জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে, সেই ঘোষকের ভূমিকাও এখন কড়া আতশকাচের নিচে।

এই ঘটনার রেশ ধরেই চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট (ডিডি)। বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পুজো মণ্ডপের ওই বিশেষ ঘোষণার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন বলেই অভিযোগ। বর্তমানে তাঁকে জেরা করে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসল সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।