সেনা-পুলিশকে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের উস্কানি!” ধ্রুব রাঠির বিস্ফোরক মন্তব্যে কড়া পদক্ষেপের দাবি প্রাক্তন ডিজিপি-র

ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের সমালোচনা করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধিতার আড়ালে দেশের সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনা এবং পুলিশকে সরকারের বিরুদ্ধে সমবেতভাবে বিদ্রোহ বা লড়াইতে নামার আহ্বান জানানো হলে তা শুধু উদ্বেগের নয়, বরং সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির সাম্প্রতিক একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঠিক এমনই এক গুরুতর প্রশ্ন এখন গোটা দেশে বড় আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে জার্মানি থেকে ভারতীয় রাজনীতি নিয়ে ভিডিও তৈরি করে আসা ধ্রুব রাঠি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দেশের পুলিশকর্মী, বলিউড তারকা এবং ভারতীয় সেনার জওয়ানদের একজোট হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি ছিল, বিশাল সংখ্যক মানুষ একযোগে রাস্তায় নামলে সরকার সবাইকে একসঙ্গে জেলে পুরতে পারবে না। আর এই মন্তব্যের পরেই দেশের প্রাক্তন ও বর্তমান নিরাপত্তা আধিকারিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।

এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিচালক (DGP) বিক্রম সিং অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জোরালো দাবি তুলেছেন যে, ওই সাক্ষাৎকারের প্রতিটি শব্দ ও সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হোক এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে অবিলম্বে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা এনএসএ (NSA)-এর মতো কঠোর ধারায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। প্রাক্তন ডিজিপি বিক্রম সিংয়ের মতে, গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে দেশের স্পর্শকাতর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতাকে ধ্বংস করার এই কুৎসিত অপচেষ্টাকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা উচিত নয়।

একই সুরে সুর মিলিয়ে ভারতের প্রাক্তন বিদেশ সচিব কনওয়াল সিব্বল এবং বিশিষ্ট আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদরাইও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের প্রাক্তন ডিজিপি এস.পি. বৈদ আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, একটি গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে মাঠে নামার প্ররোচনা দেওয়া এমন একটি বিপজ্জনক সীমারেখা, যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা উচিত নয়। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি। সমস্ত বিশেষজ্ঞ মহলের একটাই বক্তব্য—সরকারের রাজনৈতিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা বিরোধীদের আন্দোলন করা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক, কিন্তু দেশের সুরক্ষার মূল স্তম্ভ তথা সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের এই চক্রান্ত দেশকে এক চরম অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে।