উৎসবের মরসুমে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের! দিল্লির বাজারে বিক্ষোভের জেরে দৈনিক ২৫০ কোটির বিপুল লোকসানের শঙ্কা

উৎসব ও বিয়ের মরসুমের ঠিক আগে দিল্লির প্রধান বাজারগুলিতে বিক্ষোভ ও চলাচলে বাধার জেরে ব্যবসায়ে চরম বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। বাণিজ্য সংগঠনগুলির আশঙ্কা, বাজারে ক্রেতাদের অবাধ প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ২৫০ কোটি টাকার লেনদেন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের স্বার্থে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে দিল্লি কিরানা কমিটি এবং দিল্লি আয়রন অ্যান্ড হার্ডওয়্যার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই মর্মে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদরাই। আবেদনে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে যে, আসন্ন উৎসব ও বিয়ের মরসুমে দিল্লির মূল বাজারগুলিতে যেন নির্বিঘ্ন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যান চলাচল বজায় রাখার সুব্যবস্থা করা হয়।
দৈনিক ২৫০ কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কা
বাণিজ্য সংগঠনগুলির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দিল্লির বাজারগুলিতে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, মিছিল ও রাস্তা অবরোধের জেরে এই লেনদেনের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ২৫০ কোটি টাকাই ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আবেদনে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর কনট প্লেস সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার বিষয়ে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বাজারে ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের প্রবেশে এই ধরনের বাধা শুধু দোকানদাররাই নন, বরং কর্মচারী, হকার এবং দিনমজুরদের রুজিরুটিতেও সরাসরি বড় আঘাত হানছে।
এদিন মামলার শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ছোট দোকানদার, হকার এবং সাধারণ স্টল পরিচালনাকারীদের দুর্দশার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ক্ষুব্ধ সুরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপে ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পান কি না, সেটাই দেখার বিষয়।