যে পবিত্র স্থানে বধ হয়েছিল নিশুম্ভ দৈত্য, সেখানেই ভয়াবহ আগুন! মাথায় হাত ভক্তদের

উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর জেলার বাদিয়াকোটের সুপ্রসিদ্ধ এবং প্রাচীন মা আদি বদ্রি ভগবতী মন্দিরে শুক্রবার সকালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি ঘেরা এই অত্যন্ত পবিত্র ও ঐতিহাসিক মন্দির চত্বর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দূরদূরান্ত থেকে দেখতে পাওয়া যায়। ঘটনার একটি রোমহর্ষক ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় সমগ্র এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও প্রাচীন এই মন্দিরের অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কীভাবে এই আগুন লাগল এবং ঠিক কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বাগেশ্বর জেলার বাদিয়াকোটের মা আদি বদ্রি ভগবতী মন্দির কুমাউ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ও সম্মানিত ধর্মীয় তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। শুক্রবার সকালে হঠাৎই মন্দিরে আগুন লাগার ফলে সেখানে উপস্থিত ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চোখের পলকে আগুন তার ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এবং পাহাড়ের গা বেয়ে শিখা ও ধোঁয়া উঠতে শুরু করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটিতে আগুন লাগার ভয়াবহতার স্পষ্ট চিত্র ধরা পড়েছে। যদিও প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে মানুষের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবুও ঐতিহ্যের এই পীঠস্থানে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলেছে।
ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যের দিক থেকেও এই মন্দিরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মা আদি বদ্রি ভগবতী মন্দির শুধুমাত্র একটি সাধারণ ধর্মীয় আস্থার কেন্দ্রই নয়, বরং এটি ঐতিহ্যবাহী হিমালয়ান কাঠ ও পাথরের স্থাপত্যের এক অনবদ্য নিদর্শন। মন্দিরের গায়ে কাঠের ওপর নিখুঁত ও নান্দনিক হাতের কাজ বা নক্শা এর মূল আকর্ষণ ছিল, যা উত্তরাখণ্ডের প্রাচীন লোকসংস্কৃতি ও শিল্পকলার ঐতিহ্যকে বহন করত। এই অগ্নিকাণ্ডে সেই অমূল্য ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মন ভেঙেছে স্থানীয় মানুষের।
পৌরাণিক বিশ্বাস ও লোককথা অনুযায়ী, এই আদি বদ্রি মন্দির চত্বরের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস। কিংবদন্তি রয়েছে যে, স্বয়ং মা ভগবতী এই বিশেষ স্থানেই মহাশক্তিধর নিশুম্ভ দৈত্যকে বধ করেছিলেন। এই পৌরাণিক ঘটনার পরেই এই অঞ্চলের নাম ‘বধকোট’ রাখা হয়েছিল, যা কালক্রমে পরিবর্তিত হয়ে বাদিয়াকোট হয়েছে। স্থানীয় ভক্তদের কাছে এই মন্দিরের মাহাত্ম্য অপরিসীম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয় এবং ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে।