পুজোর নতুন শাড়িতে তেল-ঝাল বা সসের দাগ? এই সহজ টোটকায় নিমেষে গায়েব হবে জেদি দাগ!

দুর্গাপুজোর আনন্দ মানেই জমজমাট খাওয়া-দাওয়া, নতুন জামাকাপড় পরা আর বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা। কিন্তু পুজোর আমেজে পছন্দের নতুন সিল্ক, জামদানি বা সুতির শাড়ি পরে ফুচকা খেতে গিয়ে যদি তেঁতুল জল ছিটকে যায়, রোল খেতে গিয়ে সসের দাগ বসে যায়, কিংবা বিরিয়ানির তেল লেগে যায়, তবে মুহূর্তেই আনন্দ মাটি হয়ে যায়। বিশেষ করে শাড়ির মতো সুন্দর ও সংবেদনশীল পোশাকে এই ধরনের দাগ লাগলে তা তোলার দুশ্চিন্তায় বুক ধড়ফড় শুরু হয়। তবে আর চিন্তা নেই! সামান্য কিছু ঘরোয়া ও সহজ পদ্ধতি মেনে চললেই নিমেষে দূর করা সম্ভব যেকোনো জেদি দাগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শাড়িতে দাগ লাগলেই কিসের ভিত্তিতে তা ঘষাঘষি করা একদম উচিত নয়। কারণ জোরে ঘষলে দাগ আরও গভীরে বসে যেতে পারে। বরং দাগের ধরন বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। যেমন— ফুচকার তেঁতুল জল বা টক দইয়ের দাগ তোলার জন্য সবার প্রথমে কাপড়টিতে ঠান্ডা জল ঢালতে হবে। এরপর দাগের ওপর সামান্য বেকিং সোডা বা সাদা ভিনেগার লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে হালকা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেললে দাগ উঠে যায়। সুতির সাদা শাড়ির ক্ষেত্রে পাতিলেবুর রস অত্যন্ত জাদুকরিভাবে কাজ করে।
অন্যদিকে, সস বা চাটনির দাগ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই চামচ দিয়ে ওপরের অংশটা তুলে ফেলতে হবে। ভুলেও তা ঘষবেন না। কাপড়ের উল্টো পিঠ থেকে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে সরাসরি লিকুইড ডিটারজেন্ট লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে হালকা হাতে ধুয়ে নিলেই কেল্লাফতে। এছাড়া বিরিয়ানি, রোল বা যেকোনো তেলের দাগ তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো ট্যালকম পাউডার কিংবা বেবি পাউডার। দাগের ওপর প্রচুর পরিমাণে পাউডার ছড়িয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিলে তা সমস্ত তেল শুষে নেয়। এরপর পাউডার ঝেড়ে ডিশওয়াশ লিকুইড বা মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললেই শাড়ি একদম পরিষ্কার হয়ে যায়, যা সিল্কের কাপড়ের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ।
পাশাপাশি, মিষ্টি কিংবা কোল্ড ড্রিংকসের মতো চটচটে দাগ তোলার জন্য কাপড়টি প্রথমে সামান্য ঈষদুষ্ণ জলে ভিজিয়ে চিনি গলিয়ে নিতে হবে এবং পরে হালকা সাবান জলে ধুতে হবে। তবে এই সমস্ত ঘরোয়া টোটকা প্রয়োগ করার সময় কয়েকটি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। যেমন— জামদানি, সিল্ক বা জরির শাড়িতে কখনোই গরম জল বা শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করা যাবে না। যেকোনো টোটকা ট্রাই করার আগে শাড়ির আঁচল বা নিচের দিকের একটু অংশে তা পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো, যাতে কাপড়ের রং নষ্ট না হয়। তাছাড়া দাগ লাগার সঙ্গে সঙ্গেই যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন, কারণ দাগ শুকিয়ে গেলে তা পাকা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং, এই শারদোৎসবে আর কোনো ভয় নেই; ফুচকা হোক কিংবা রোল— মন খুলে খান, আর দাগ লাগলে রইল এই ঝটপট সমাধানের চাবিকাঠি!