ঋণে ডুবে থাকা পাকিস্তান, হঠাত্ IMF ও World Bank-এর নেতৃত্বে, কীভাবে? তীব্র বিতর্ক

আন্তর্জাতিক আর্থিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়ে এক বিরাট দায়িত্ব পেতে চলেছে পাকিস্তান। একদিকে বিদেশি ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রতিনিয়ত ত্রাণের আর্জি জানাচ্ছে শাহবাজ শরিফের দেশ, অন্যদিকে ২০২৭ সালের জন্য এই দুই বিশ্বমানের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অফ গভর্নরসের চেয়ারম্যান পদ কুক্ষিগত করল তারা। আর এই নিয়োগ ঘিরেই এখন বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র কৌতূহল ও রাজনৈতিক চর্চা।
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর বার্ষিক বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, আগামী ২০২৭ সালে এই মর্যাদাপূর্ণ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলাবেন পাকিস্তানের বিশ্বব্যাংকের গভর্নর তথা দেশটির অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী আহাদ খান চিমা। দীর্ঘ ৭৪ বছর পর, অর্থাৎ ১৯৫৩ সালের পর এই প্রথমবার পাকিস্তান এই আন্তর্জাতিক মঞ্চের শীর্ষ আসনে বসতে চলেছে। পাকিস্তান সরকারের তরফে বিষয়টিকে এক ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে দাবি করা হলেও, আন্তর্জাতিক মহলে এর নেপথ্য কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
চেয়ার পেলেই কি ঋণের নীতি বদলানো যাবে?
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, এই চেয়ার পাওয়ার অর্থ সরাসরি ঋণ বিতরণের নীতি বা আর্থিক সিদ্ধান্তের উপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ পাওয়া নয়। মূলত সদস্য দেশগুলির অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের নিয়ে গঠিত বার্ষিক সভার কার্যপ্রণালী ও আলোচনার পরিচালনা করার দায়িত্ব থাকে এই পদের দায়িত্বে থাকা দেশের ওপর। তবে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কূটনীতিতে যে পাকিস্তান বাড়তি সুবিধা আদায় করে নেবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
একগলা ঋণে ডুবে থাকা পাকিস্তানের আসল চিত্রটা কী?
১৯৫০ সালে আইএমএফ-এ যোগ দেওয়ার পর থেকে અત્યાર পর্যন্ত অন্তত ২৫ বার বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচির সাহায্য নিতে হয়েছে পাকিস্তানকে। বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার তলানিতে ঠেকায় এবং মূল্যবৃদ্ধির যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের দরজায় কড়া নাড়তে হয় তাদের। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আইএমএফ-এর নতুন দফার সমঝোতার আওতায় অতিরিক্ত প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের অপেক্ষায় রয়েছে ইসলামাবাদ।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মডেল দীর্ঘমেয়াদে একেবারেই টেকসই নয়। সরকারি স্তরে মাত্রাতিরিক্ত খরচ, উৎপাদনশীলতার অভাব এবং বিদেশি ঋণের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই তাদের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। এমন বেহাল দশার একটি দেশের কাঁধে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের বোর্ড পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন আন্তর্জাতিক আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা।