পুজোর মুখে বাংলা জুড়ে রণক্ষেত্র! একের পর এক সিপিএমের বুকস্টল ভেঙে আগুন, কাঠগড়ায় কারা?

শারদোৎসবের আবহেই রাজ্য রাজনীতিতে বইছে চরম উত্তেজনার পারদ। দুর্গাপুজোর মণ্ডপের পাশে বামেদের ঐতিহ্যবাহী বুকস্টল বসানোকে কেন্দ্র করে একের পর এক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তোলপাড় উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গ। এবার উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরে রাতের অন্ধকারে সিপিএমের একটি বুকস্টলে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। বীজপুর পানপুর এরিয়া কমিটির অন্তর্গত চারাপোল শাখা অফিসের সামনের এই ঘটনায় সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছে বাম নেতৃত্ব। তবে এই একটি ঘটনাই নয়, পুজো আসতেই ঢাকুরিয়া, হাওড়ার শিবপুর, এন্টালি ও কুলপিতে বুকস্টল করাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকুরিয়ায় প্রথম বামদের বুকস্টলে হামলা চালানো হয় এবং কর্মীদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই হাওড়ার শিবপুরে পুজো মণ্ডপের সামনে নির্মীয়মাণ একটি বুকস্টল সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। দুই ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির পাল্টা দাবি, রাজ্যের বহু জায়গায় বিজেপি বা রাষ্ট্রবাদী সংগঠনগুলির জন্য চিহ্নিত জায়গা গায়ের জোরে দখল করছে সিপিএম। অন্যদিকে, কলকাতার এন্টালিতেও দেখা গেছে চরম উত্তেজনা। সেখানে ‘কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতি’র পক্ষ থেকে ফ্লেক্স টাঙিয়ে পুজোয় ‘বাম বধে’র হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পুজো মণ্ডপ চত্বরে স্টল বসাতে বাধা দিয়ে স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ তোলে, দোকান ঘিরে বেআইনিভাবে এই স্টল তৈরি করছিল সিপিএম।
উত্তেজনার আগুন ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতেও। সেখানে বামেদের বুকস্টল তৈরির সময় একদল বিক্ষোভকারী ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিয়ে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। সিপিএম এর পেছনে বিজেপির ইন্ধন দেখলেও, বিক্ষোভকারীদের দাবি তারা সাধারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবেই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই কুলপি থানার দ্বারস্থ হয়েছে বামেরা। এর মাঝে বনগাঁ ও নৈহাটিতে পুজোয় স্টল বসানোর অনুমতি না পাওয়ায় জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, “ওঁরা বই বিক্রি করতে চান, খাবার নয়।” অবশেষে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, বনগাঁয় পার্টি অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে সিপিএমকে স্টল করতে দিতে হবে এবং শান্তি বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। সব মিলিয়ে, বই বিক্রির টেবিল ঘিরে পুজোয় কতটা শান্তি বজায় থাকে, সেদিকেই নজর সবার।