১৩ বছরের প্রেমে পরকীয়ার বিষ! চুঁচুড়ায় ঘর থেকে ঝুলন্ত যুবতীর দেহ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার

১৩ বছর আগে নিজের পছন্দে ঘর বেঁধেছিলেন দু’জনে। কোল আলো করে এসেছিল দুই সন্তানও। কিন্তু সেই সাজানো সংসারে যে পরকীয়ার সন্দেহে এমন করুণ পরিণতি ঘনিয়ে আসবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। হুগলির চুঁচুড়ার প্রতাপপুরে সানন্দা বারিক (৩১) নামে এক যুবতীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী মদনমোহন বারিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার সন্দেহে স্ত্রীকে খুন করেছেন স্বামী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশার বালেশ্বরের বাসিন্দা মদনমোহন বারিকের সঙ্গে ১৩ বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রতাপপুরের মেয়ে সানন্দা। বর্তমানে তাঁরা প্রতাপপুরেই একটি ভাড়া বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। মদনমোহন একটি শাড়ির দোকানে কাজ করেন। তাঁদের বড় ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে রামকৃষ্ণ মিশনে থেকে পড়াশোনা করে এবং ছোট সন্তানের বয়স মাত্র ৫ বছর।
ঘর থেকে তীব্র গন্ধ, তার পরই উদ্ধার দেহ: গত বুধবার দুপুর থেকে সানন্দা ও মদনমোহন—কাউকেই এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে তাঁদের ভাড়া ঘরটি ছিল তালাবন্ধ। কিন্তু বৃহস্পতিবার ঘরের ভেতর থেকে সন্দেহজনক গন্ধ বের হতে শুরু করায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বাড়ির মালিক ও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে। পুলিশ এসে বন্ধ ঘরের দরজা খুলে সানন্দা বারিকের নিথর দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছিলেন স্বামী মদনমোহন।
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার: ঘটনার পর তদন্তে নেমে শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত স্বামী মদনমোহন বারিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
চুঁচুড়া থানা পুলিশ সূত্রের দাবি, স্ত্রীর বিরুদ্ধে অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে অশান্তি চলছিল। সেই পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা স্পষ্ট হতে অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুবতীর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ।