৩৬০-র ম্যাজিক ফিগার কি ছুঁতে পারবে NDA? বিশেষ অধিবেশন ডাকতেই হুড়মুড়িয়ে বাড়ছে জল্পনা!

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) ইস্যুকে কেন্দ্র করে যখন দেশজুড়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ও রাজনৈতিক পারদ চড়ে রয়েছে, ঠিক তখনই এক চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপে বড়সড় রাজনৈতিক মোড় আনতে চলেছে মোদী সরকার। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, চলতি মাসের শেষেই সংসদে একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্র। এই বিশেষ অধিবেশনের মূল লক্ষ্য হলো— লোকসভার ডিলিমিটেশন (পুনর্বিন্যাস) এবং সংশোধিত মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করানো। সরকারি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এই বিল পাস করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাবল এবার কেন্দ্রের হাতে রয়েছে।
কেন এই বিল নিয়ে এত বিতর্ক? এর আগেও কেন্দ্র সরকার এই বিলটি পাশের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল। কিন্তু সেবার ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট একজোট হয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করায় ধাক্কা খেয়েছিল মোদী সরকার। গত ১৭ এপ্রিল যখন বিলটি লোকসভায় আনা হয়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর প্রবল আপত্তির মুখে পড়তে হয় সরকারকে। বিরোধীদের মূল যুক্তি ছিল, ডিলিমিটেশনের মতো বিষয়টিকে মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে গুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু মহিলা সংরক্ষণ বিল আগেই সর্বসম্মতভাবে পাস হয়ে গিয়েছে, তাই ডিলিমিটেশনের নামে তা পুনরায় আনার কী প্রয়োজন— সেই প্রশ্ন তুলেই বিরোধী জোট বিলটি আটকে দিয়েছিল।
সংখ্যার অঙ্ক ও এনডিএ-র প্রস্তুতি: সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করানোর জন্য সংসদের উভয় কক্ষে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ প্রায় ৩৬০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান লোকসভায় মোট ৫৪০টি আসন রয়েছে। যদিও একা এনডিএ-র কাছে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও, গত অধিবেশনের পর থেকে শাসক শিবিরের সমর্থন অনেকটাই বেড়েছে। সূত্রের খবর, তৃণমূল শিবিরের বিদ্রোহী ২০ জন এবং শিবসেনা (UBT)-র ৬ জন সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থন করতে প্রস্তুত রয়েছেন। পাশাপাশি, সম্ভাব্য ভোটাভুটির আগে বিরোধীদের অন্দরে ফাটল ধরাতে এবং নিজেদের সমর্থন আরও মজবুত করতে ছোট দলগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট শেষ হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে প্রয়োজন সাপেক্ষে বিশেষ অধিবেশন ডাকার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের কোনো বাধা নেই। অধিবেশন শুরুর অন্তত এক সপ্তাহ আগে সরকারিভাবে নোটিস জারি করা হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এসআইআর ইস্যুতে বিরোধী জোট যে রকম ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ছে, এই বিশেষ অধিবেশনে বিল পাশের সময় কোন কোন দল শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে দাঁড়ায়।