এআই বিপ্লবের নেপথ্যে মহাবিপদের মেঘ! বন্ড বাজারে নামছে ধস, আতঙ্কে শেয়ার বাজারও?

দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে এবার নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের টেক জায়ান্টদের বিপুল ঋণ সংগ্রহের খবর। ফিক্সড-ইনকাম বিশেষজ্ঞ তথা BondCliQ এবং ViableMkts-এর সিইও ক্রিস হোয়াইটের মতে, এআই হাইপারস্কেলারদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বন্ড বাজারে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। CNBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শেয়ার বাজারের মতো বন্ড বাজার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায় না; বরং বন্ড বাজারে ঝুঁকি এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা সংক্রান্ত উদ্বেগের সার্বিক প্রভাব স্পষ্ট হতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

মূলত CoreWeave, Oracle-এর মতো টেক জায়ান্টগুলির ডেটা সেন্টার তৈরি ও কম্পিউটিং পরিকাঠামো সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে। অরেক্ল ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনিয়র আনসিকিওরড বন্ড ইস্যু করে ২৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল এবং কোরওয়েভ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে যখন এসব ঋণের রিফাইন্যান্সিং বা পুনর্অর্থায়নের প্রয়োজন হবে, তখন সুদের হার বেশি থাকলে ঋণের খরচ মারাত্মক বৃদ্ধি পাবে।

এআই সংস্থাগুলি বন্ড বাজারে বন্ডের জোগান বাড়ালে বন্ডের দাম কমবে ও ইল্ড বাড়বে, যা কর্পোরেট ঋণের খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এমনকি Microsoft-এর মতো ট্রিপল-এ রেটিংপ্রাপ্ত সংস্থাও যদি বেশি ইল্ডে বন্ড ইস্যু করে, তবে তা পুরো টেক ইন্ডাস্ট্রির ঋণের খরচ বাড়িয়ে দেবে। এই জোগান বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন ট্রেজারি বাজারেও, যেখানে মার্কিন সরকারকেও বিনিয়োগকারীদের টানতে বেশি ইল্ড অফার করতে হতে পারে। ফলে সুদের হার বাড়লে পুরনো বন্ডের দাম নামবে এবং এআই খাত থেকে পর্যাপ্ত ক্যাশ-ফ্লো বা নগদ প্রবাহ না এলে ভবিষ্যৎ ঋণ পরিশোধের চাপ অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।