৯০ কোটির দেনা থেকে ৪০০০ কোটির সাম্রাজ্য! জন্মদিনে ফাঁস অমিতাভ বচ্চনের রাজকীয় সম্পত্তির অবিশ্বাস্য গল্প

আজ ১১ অক্টোবর, ৮৪তম জন্মদিন উদযাপন করছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের মহাতারকা অমিতাভ বচ্চন। তাঁর এই বর্ণময় জীবন এবং আর্থিক উত্থান-পতনের গল্প সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর ২০২৬ সালের অক্টোবরের একটি প্রতিবেদন এবং হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, বচ্চন পরিবারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা। যদিও এই বিপুল সম্পদ পুরো পরিবারের সম্মিলিত, তবুও হিন্দি সিনেমার শাহেনশা হিসেবে তাঁর রাজকীয় অবস্থানের এটি এক জ্বলন্ত প্রমাণ।

তবে এই সাফল্যের পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। নব্বইয়ের দশকে অমিতাভ বচ্চন কর্পোরেশন লিমিটেড (ABCL) মারত্মক ক্ষতির মুখে পড়লে প্রায় ৯০ কোটি টাকার দেনায় ডুবে গিয়েছিলেন তিনি। পাওনাদারদের চাপ এবং সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কায় অন্ধকার নেমে এসেছিল তাঁর জীবনে। কিন্তু হার না মেনে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ান। ছোটপর্দায় ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (KBC) সঞ্চালনা এবং ‘মহব্বতে’-র মতো ছবির হাত ধরে তিনি শুধু দেনা মেটাননি, বরং নতুন করে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।

বর্তমানে সিনেমা, টিভি শো, বিশ্বমানের বিজ্ঞাপন এবং বিশাল রিয়েল এস্টেট পোর্টফোলিও থেকে তাঁর আয় আকাশছোঁয়া। বচ্চন পরিবারের মুকুটে সবচেয়ে বড় রত্ন হলো মুম্বইয়ের জুহুতে অবস্থিত তাঁদের আইকনিক সমুদ্রমুখী বাংলো ‘জলসা’, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। ১০ হাজার বর্গফুটের এই বাড়ির টানেই প্রতি রবিবার হাজার হাজার ভক্ত ভিড় জমান। ‘জলসা’ ছাড়াও মুম্বইয়ে তাঁদের রয়েছে ‘প্রতীক্ষা’, ‘জনক’ এবং ‘বত্সা’-র মতো একাধিক ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি। এর মধ্যে ‘প্রতীক্ষা’ বাংলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অমিতাভের বহু পুরনো আবেগ ও স্মৃতি।

মুম্বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য শহরেও তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে। এনডিটিভি-র ২০২৬ সালের অগাস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্ধেরি ওয়েস্টে সিগনেচার বিল্ডিংয়ের তিনটি ফ্লোর একটি নিউট্রিশন সংস্থাকে প্রতি মাসে ৩৩ লক্ষ টাকা ভাড়ায় দিয়েছেন তিনি, যার পাঁচ বছরের চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ২১.৮৮ কোটি টাকা। এছাড়া বোরিভালিতে দুটি ফ্ল্যাট, গুরগাঁওতে অ্যাপার্টমেন্ট এবং আলিবাগ ও অযোধ্যায় বিপুল জমিও কিনেছেন তিনি।

চলচ্চিত্রের বাইরে মেধা, জেদ এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে কী করে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানো যায়, অমিতাভ বচ্চন তার এক অনন্য জীবন্ত উদাহরণ। চরম আর্থিক সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি যেভাবে নিজেকে বারবার প্রাসঙ্গিক রেখেছেন, তা ভারতীয় বিনোদন জগতের ইতিহাসে এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় হিসেবে চিরকাল খোদাই হয়ে থাকবে।