আইডি কার্ড দেখেও ছিনিয়ে নেওয়া হল ফোন! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের খবর করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে এ কি ঘটল?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা প্রতিবাদ-বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দিল্লিতে ব্যাপক পুলিশি হেনস্তা ও আটকের শিকার হলেন একাধিক সাংবাদিক। ঘটনাটি ঘিরে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। সংবাদমাধ্যমের ওপর এই অভূতপূর্ব আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ময়দানে নেমেছে প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া (PCI), ইন্ডিয়ান উইমেন্স প্রেস কোর (IWPC), দিল্লি ইউনিয়ন অফ জার্নালিস্টস (DUJ) এবং কেরালা ইউনিয়ন অফ ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস (দিল্লি ইউনিট)। এক যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিক সংগঠনগুলি স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর এক ভয়ঙ্কর এবং পরিকল্পিত আক্রমণ।

শনিবার দিল্লিতে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কভার করার সময় পুলিশ সাংবাদিকদের জোরপূর্বক আটক করে তুলে নিয়ে যায়। পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও কোনো কথা শোনেনি পুলিশ। উল্টে কটাক্ষ করে বলা হয়, “আজকাল তো সবাই সাংবাদিক হয়ে গিয়েছে!” সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ও সরঞ্জাম কেড়ে নিয়ে চাণক্যপুরী থানা এবং ছত্রশাল স্টেডিয়ামের ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখা হয়।

সাংবাদিক সংগঠনগুলির দাবি, আটক সাংবাদিকদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং ছিনিয়ে নেওয়া সমস্ত সরঞ্জাম ফেরত দিয়ে দিল্লি পুলিশকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। PIB কার্ড না থাকলেও ডিজিটাল ও স্বাধীন সাংবাদিকরা আইনের চোখে সমান গুরুত্ব পান। নিরাপত্তার নামে ২২ হাজার সেনা মোতায়েন, মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ইন্টারনেট স্তব্ধ করা এবং সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার এই ঘৃণ্য চেষ্টাকে ‘ফ্যাসিস্ট মানসিকতা’ বলে তোপ দাগা হয়েছে। যেসব শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে এই বেআইনি ধরপাকড় চলেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়েছে।