প্রদীপের আলো নিমেষেই কেড়ে নিল দুই শিশুর প্রাণ! গোপালগঞ্জের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই বহু স্বপ্ন!

বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার বৈকুণ্ঠপুরের সাফিআবাদ গ্রামে গ্যাস সিলিন্ডারে সৃষ্ট এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে দুই শিশুর। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন কমপক্ষে ১৬ জন, যাদের সকলের অবস্থাই বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে মোট ২০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বিহারের শিক্ষামন্ত্রী তথা বৈকুণ্ঠপুরের স্থানীয় বিধায়ক মিথিলেশ তিওয়ারি তৎক্ষণাৎ সদর হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তদন্তে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে মারাত্মক গ্যাস লিকের ফলেই এই আগুন লাগার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পেছনে কার বা কাদের অবহেলা রয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি গোপালগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সমীর সৌরভকে সমগ্র ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রী আরও জানান যে, এই দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সরকারি নিয়ম ও নীতি অনুযায়ী অবিলম্বে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদানে জেলা প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার গভীর রাতে সাফিআবাদ গ্রামের একটি বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানোর সময় হঠাৎই রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে মারাত্মকভাবে গ্যাস লিক করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে সেই লিক থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বাড়িতে উপস্থিত বহু মানুষ গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৮ জনকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয় এবং ১৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের বিশেষ চিকিৎসাকেন্দ্রে রেফার করা হয়। বর্তমানে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ আহতদের দ্রুত সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।