‘শিবের বরযাত্রী মানেই কি বিশৃঙ্খলা?’ রাহুল গান্ধীর বিতর্কিত তুলনা ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ঝড়!

লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে দেশের রাজনৈতিক ময়দানে এক প্রবল বিতর্কের ঝড় উঠেছে। নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে দিল্লিতে বিরোধী শিবিরের প্রতিবাদ আন্দোলনকে ‘শিব বরাত’-এর সঙ্গে তুলনা করেন রাহুল গান্ধী। শুধু তাই নয়, এই আন্দোলনকে তিনি স্বতঃস্ফূর্ত এবং সবার জন্য উন্মুক্ত বোঝাতে গিয়ে দেবাদিদেব মহাদেবের ‘তাণ্ডব’-এর সঙ্গেও তার তুলনা টানেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরই কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) সহ একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। সনাতন সংস্কৃতির পবিত্র ধর্মীয় প্রতীককে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।

হিন্দু শাস্ত্র ও পুরাণ অনুযায়ী, শিব বরাত বা শিবের বিবাহযাত্রা কোনো সাধারণ বা লৌকিক শোভাযাত্রা নয়। শিবপুরাণের রুদ্রসংহিতার পার্বতীখণ্ডে দেবাদিদেব মহাদেব ও মা পার্বতীর দিব্য বিবাহ এবং তার প্রস্তুতি সংক্রান্ত একাধিক অধ্যায়ে এর সুনির্দিষ্ট ও পবিত্র বিবরণ রয়েছে। মহাশিবরাত্রির মতো পবিত্র তিথিতেই ধর্মীয় আচার মেনে এই বরাত বের করার প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। এই পবিত্র ধর্মীয় প্রसंगে ভূত-প্রেত বা অদ্ভুত প্রকৃতির শিবগণদের অংশগ্রহণের রূপকটি মূলত জাগতিক অহংকার, বাহ্যিক বৈভব ও সামাজিক মর্যাদার ঊর্ধ্বে মহাদেবের দিব্য স্বরূপকেই নির্দেশ করে। অথচ, বর্তমান রাজনৈতিক আন্দোলনের স্লোগান, জটলা, ধাক্কাধাক্কি এবং বিশৃঙ্খল জনস্রোতের সঙ্গে এই দিব্য প্রसंगের তুলনা করা কতটা সংগত—তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলেছেন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই সাংবিধানিক উপায়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করার অবাধ অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রকাশ করতে গিয়ে কোটি কোটি মানুষের ভক্তি ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা পবিত্র ধর্মীয় প্রতীক বা প্রसंगগুলিকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা কতটা যুক্তিযুক্ত? এই প্রশ্নই এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। বিরোধীদের এই অবস্থান যেমন একদিকে রাজনৈতিক কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে সনাতন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার তীব্র সমালোচনাও তীব্রতর হচ্ছে।