কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য বাম্পার ধামাকা! ন্যূনতম বেসিক পে একলাফে বেড়ে ৬৯ হাজার টাকা হওয়ার প্রস্তাব?

অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠনকে কেন্দ্র করে দেশের কোটি কোটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বেতন, পেনশন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং পরিবারের সদস্য সংক্রান্ত একাধিক চাঞ্চল্যকর ও যুগান্তকারী প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। যদিও এগুলি সম্পূর্ণভাবেই কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি এবং এর ওপর এখনও সরকারি সিলমোহর বসেনি, তবুও এই প্রস্তাবগুলি সামনে আসতেই কেন্দ্রীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ন্যূনতম বেসিক পে এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM)-এর কর্মচারী পক্ষের তরফে ৩.৮৩৩-এর একটি আকর্ষণীয় ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি তোলা হয়েছে। সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে যেখানে ন্যূনতম বেসিক বেতন ছিল ১৮,০০০ টাকা, সেখানে এই নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা সোজা বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, ১৮,০০০ টাকাকে ৩.৮৩৩ দিয়ে গুণ করলেই এই অঙ্ক পাওয়া যায়। এই দাবি পূর্ণ হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসবে।

পরিবারের হিসাব ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে এতদিন যেখানে পরিবারকে তিনটি ইউনিট হিসেবে ধরা হতো, সেখানে তা বাড়িয়ে পাঁচটি ইউনিট করার দাবি জানিয়েছে ইউনিয়নগুলি। প্রস্তাব অনুযায়ী, কর্মচারী ও তাঁর জীবনসঙ্গী ছাড়াও দুই সন্তান এবং নির্ভরশীল বাবা-মায়ের জীবনযাত্রার খরচও যাতে নূন্যতম বেতন নির্ধারণের সময় বিবেচনায় রাখা হয়, সেই দাবি জোরালো করা হয়েছে। পাশাপাশি, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কর্মচারীদের স্বস্তি দিতে বর্তমানে প্রচলিত ৩ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার দ্বিগুণ অর্থাৎ ৬ শতাংশ করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, বর্তমানের ১৮টি পে-লেভেল বা বেতন স্তরকে আরও সরল করার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও দায়িত্বের ভিত্তিতে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবিও উঠেছে। তবে এই সমস্ত প্রস্তাবগুলি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সুপারিশ এবং তা কার্যকর করার বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে অষ্টম বেতন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরই নির্ভর করছে।